

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফুটবল মাঠে পেনাল্টি বক্সের সামনে থাকা অর্ধবৃত্তাকার অংশটিকে অনেকেই ‘ডি বক্স’ নামে চেনেন। তবে ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নিয়মে এর নাম পেনাল্টি আর্ক। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে প্রতিটি ম্যাচেই এটি চোখে পড়ে, কিন্তু এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেক দর্শকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। বাস্তবে এটি মাঠের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য নয়, বরং খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
পেনাল্টি কিক নেওয়ার সময় কিকার ও গোলরক্ষক ছাড়া অন্য সব খেলোয়াড়কে পেনাল্টি স্পট থেকে অন্তত ১০ গজ (৯.১৫ মিটার) দূরে থাকতে হয়। এছাড়া গোললাইন থেকে পেনাল্টি বক্সের লাইনের দূরত্ব থাকে ১৮ গজ বা ১৬.৪৫ মিটার। তার বাইরে থাকে একটা অর্ধগোলাকৃতি বক্স। অন্যদিকে গোললাইন থেকে ১২ গজ বা প্রায় ১১ মিটার থেকে পেনাল্টি স্পট।
কিন্তু পেনাল্টি বক্সের সোজা সামনের রেখা পেনাল্টি স্পট থেকে সেই নির্ধারিত দূরত্ব নিশ্চিত করতে পারে না। তাই পেনাল্টি স্পটকে কেন্দ্র করে ১০ গজ ব্যাসার্ধের একটি আর্ক আঁকা হয়, যাতে সব খেলোয়াড় সমান দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে পারেন এবং কেউ বাড়তি সুবিধা না পান।
এই আর্কের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হলো পেনাল্টি নেওয়ার সময় ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ ডি বক্সের যে মাথাতেই ডিফেন্ডাররা দাঁড়াক না কেন, পেনাল্টি স্পট থেকে সমান দূরত্বে থাকবে। যদি শটটি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দেন বা পোস্টে লেগে ফিরে আসে, তাহলে দুই দলের খেলোয়াড়রা একই দূরত্ব থেকে বলের দিকে এগোতে পারেন। এতে কোনো পক্ষই অবস্থানগত অতিরিক্ত সুবিধা পায় না।
অন্যদিকে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে থাকা ছোট আয়তাকার অংশটি পরিচিত ৬ গজের বক্স বা গোল এরিয়া নামে। এটি গোললাইন থেকে ৫.৫ মিটার (৬ গজ) পর্যন্ত বিস্তৃত। গোল কিক নেওয়া, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইনডিরেক্ট ফ্রি-কিকের অবস্থান নির্ধারণ এবং গোলরক্ষকের কিছু বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য এই অংশটি ব্যবহৃত হয়। ইতিহাস অনুযায়ী, শুরুতে এই অংশটি বর্তমানের মতো আয়তাকার ছিল না; ১৮৯৮ সালে এর বর্তমান নকশা চালু করা হয়।
বর্তমান পেনাল্টি এরিয়ার নিয়ম ১৯০২ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) নির্ধারণ করে। এরপর থেকে ১৮ গজের পেনাল্টি বক্স, ১২ গজের পেনাল্টি স্পট এবং ১০ গজ ব্যাসার্ধের পেনাল্টি আর্ক বিশ্বজুড়ে ফুটবলের অভিন্ন নিয়মের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

