

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন বলিউড তারকা সালমান খান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টিকে রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সালমান খান তার পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে, পরবর্তী সময়ে তা সহিংস রূপ নেওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভের সময় আহত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
তরুণ ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রশংসা করে সালমান খান বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি সন্তানদের পাশে দাঁড়ানো অভিভাবকদেরও প্রশংসা করেন এই মেগাস্টার।
অভিনেতা বলেন, এই বিষয়টি মূলত শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার সমস্যা। তাই এটিকে কোনো রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত করা উচিত নয়। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের কৃতিত্ব শুধু শিক্ষার্থীদেরই প্রাপ্য।
সালমান আশা প্রকাশ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি ইতিবাচক ভূমিকা নেবে এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, শিক্ষা যেন ফ্যাশনের মতোই আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে ওঠে, যাতে ভারত বিশ্বব্যাপী শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা NEET-UG-এর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।
ভারতে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী সোনম ওয়াংচুকে জোরপূর্বক হাসপাতালে তুলে নেয় নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার। এরপর ঘটনার তীব্রতা বাড়তে থাকে।
গত সোমবার দিল্লিতে ককরোচ দলের ডাকে বড় পরিসরে আন্দোলনকালে শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং এরপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
ভারতে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি বলেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীও সরকারের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: দ্য স্টেটসম্যান