

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পোশাক বিতর্ক এবং কুকুরের হাতে রাখি বাঁধার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে গয়না প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড 'জিভা'। শেষ পর্যন্ত তারা বিজ্ঞাপনটি সব মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে বিবৃতি দিয়ে জিভা জানায়, ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
পরিবারের পোষা প্রাণীদের উৎসবের আনন্দে শামিল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এটি কারও ধর্মীয় বা সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত করে থাকলে তারা দুঃখপ্রকাশ করে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিজ্ঞাপনে বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যাননকে একটি ব্রালেট-ধাঁচের ব্লাউজ, কেপ ও স্কার্ট পরে একটি কুকুরের সঙ্গে রাখি বন্ধন উদযাপিত করতে দেখা যায়। নেটিজেনদের একাংশ কৃতির এই পোশাককে ‘বিকিনি’ বা ‘ব্রা’ এর সঙ্গে তুলনা করে হিন্দু ঐতিহ্যকে অবমাননার অভিযোগ তোলেন।
এই বিতর্কে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত বলেন, কৃতি 'বিকিনি পরে রাখি বাঁধছেন', যা ইচ্ছাকৃতভাবেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য করা হয়েছে।
কৃতি স্যানন ও নূপুর স্যাননের প্রতিবাদ
কঙ্গনার সমালোচনার জবাবে কৃতি জানান, উৎসবের আসল বিষয় হলো ভালোবাসা ও আবেগ, পরা পোশাক নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে সমাজ আর কতদিন মন্তব্য করবে?
সংস্কৃতি থাকে হৃদয়ে, পোশাকের কাটছাঁটে নয়। আর কুকুরকে রাখি বাঁধার বিষয়ে তিনি বলেন, রাখি হলো সুরক্ষা ও ভালোবাসার প্রতীক, তাই পরিবারের অংশ হিসেবে পোষা প্রাণীকে তা পরানো ভুল কিছু নয়।
কৃতির বোন নূপুর স্যাননও কৃতির বক্তব্য শেয়ার করে কঙ্গনার উদ্দেশে বলেন, অন্য নারীর পোশাক নিয়ে এত মাথা ঘামানো বন্ধ করে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা উচিত।
রাহুল গান্ধীর সমর্থন
রাজনীতিবিদ ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কৃতির বক্তব্য সমর্থন করে তার পাশে দাঁড়ান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন- কোনো নারী কী পরবেন বা কী করবেন, সেটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
নারীদের স্বাধীনতার ওপর ট্রোল করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘#SmashThePatriarchy’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।
বলিউড ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বহু আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ ও বিতর্ক এড়াতেই বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেওয়ার পথ বেছে নেয় জিভা।


