

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের বিষয়ে নিশ্চিত হতে বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রকাশিতব্য মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে স্বর্ণের বাজারে লেনদেন নিয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১৮ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, মার্কিন সোনার ফিউচার ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৭৩ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দামবৃদ্ধির পর সোনার বাজার কিছুটা অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘটনা সামনে থাকায় এবং সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর বাজার কিছুটা সতর্ক অবস্থায় থাকায় বুধবার সোনার দাম স্থিরতার দিকে রয়েছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এসব তথ্য ও বক্তব্য থেকে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার কোন পথে যেতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক ও ভোক্তা মূল্যস্ফীতির তুলনামূলক দুর্বল তথ্য প্রকাশের পর সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে—এমন সম্ভাবনা এখন প্রায় ৬৪ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
সাধারণত উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা কোনো সুদ বা আয় দেয় না। অন্যদিকে সুদের হার কমার সম্ভাবনা বাড়লে সোনায় বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে।
স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও'কনেল বলেন, কেভিন ওয়ার্শ মুদ্রানীতি নিয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান না জানালে অনিশ্চয়তার কারণে ডলারের দাম আবারও কমতে পারে এবং সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে তিনি যদি কঠোর মুদ্রানীতির অবস্থান স্পষ্ট করেন, তাহলে সোনার দামে চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মধ্যে ইরান ও প্রতিবেশী দেশ ওমান হরমুজ প্রণালি পরিচালনা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগও বাজারে নজরদারির বিষয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে হংকং হয়ে চীনের নিট সোনা আমদানি আগের মাসের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় দেশটির সোনা আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে বুধবার স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৪ দশমিক ৫১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩৯ দশমিক ৭৫ ডলারে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স


