

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুর শহরের এসকে শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় বন্ধক রাখা স্বর্ণের মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। পলাতক বা নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠা পরিবারের সদস্যরা হলেন—পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস।
উপমা দে বলেন, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বিভিন্ন কারণে ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে সেই স্বর্ণ ফেরত দিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক স্থানে দোকান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকা দিয়ে তা বন্ধক রাখা হতো।
রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান বলেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আর বাসায় নেই।
রাসেল খান জানান, এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।
দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তারাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন পিন্টু দাস। তার মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।
এদিকে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের হঠাৎ করে খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ তাদের আত্মগোপনে যাওয়ার কথা বললেও বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস স্বপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—এ বিষয়টি আজই জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে জানতে পেরেছি, তার কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না।


