মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই আসনে প্রার্থীশূন্য বিএনপি জোট, জামায়াতের সব বহাল

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
জামায়াত ও বিএনপির লোগো
expand
জামায়াত ও বিএনপির লোগো

৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ২৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ১৬২ প্রার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ আপিলে সমাধান পেয়েছেন বাদ পড়া প্রার্থীর প্রায় ৫৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিলে বৈধ বিবেচিত প্রার্থীর সংখ্যা আগের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

তবে বিএনপি ও তার জোটের বিকল্প প্রার্থী না থাকায় আপাতত দুটি আসন দলটির প্রার্থীশূন্য রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার। বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে ইসি। ওই দিন থেকে শুরু হবে প্রচার-প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট।

এর আগে রোববার শেষ হওয়া ইসির ৯ দিনের আপিল শুনানিতে বাছাইয়ে বাদ পড়া ৮২ ঋণখেলাপির বেশির ভাগ প্রার্থিতা ফিরে পান। এর মধ্যে বিএনপির দুজন, জামায়াতের দুজনসহ অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন।

আর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা ২৬ প্রার্থীর বিষয়ে শুনানি শেষে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও তিনজনের বাতিল ঘোষণা করে ইসি।

বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৫, জাতীয় পার্টির ২, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১, ইসলামী আন্দোলনের ২, খেলাফত মজলিসের ১ এবং ২ স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বাতিল হওয়া তিন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র একজন করে।

সংবিধানে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন জমার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়ে প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন এই জটিলতায় থাকা প্রার্থীরা। এতে সংবিধান ও আদালতের

নির্দেশনার লঙ্ঘন হয়েছে বলে ইসিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন সচেতন নাগরিক মামুন হাওলাদার। আবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া শুনানিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশির ভাগ দলের প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয়েছে।

বিএনপি ও জামায়াত জোটের অন্য শরিকরাও ছাড় পেয়েছে কমবেশি। ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলোর কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হলেও টিকে গেছেন বাকিরা। তবে দলীয় প্রার্থিতা ফেরত পাওয়ার সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইকালে দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২টি বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পক্ষে তিনটি আসনে দাখিল করা তিনটি মনোনয়নপত্র বাছাই ছাড়াই কার্যক্রম শেষ করে ইসি।

এরপর ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাতিল-গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন জমা পড়ে ৬৪৫টি। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি ইসির শুনানি শেষে ৪২৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান, যা আগে বাদ পড়া প্রার্থীর ৫৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের বেশি। এরই মধ্যে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন কমপক্ষে আরও তিনজন। ফলে এখন পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৬৪ জন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে আরও অনেকে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। সেখানকার রায় শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে বাদ যান ৭৩১ প্রার্থী। এরপর আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান ২৮৬ জন। ফলে এবার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সংখ্যা গতবারের তুলনায় ১৩৯ জন বেশি।

বিএনপি জোটের প্রার্থীশূন্য দুটি আসন

এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসন নিজেদের রেখে বাকি আটটি আসনে শরিক দলগুলোকে ছাড় দেয়। এর মধ্যে জমিয়তে উলামা চারটি এবং নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসনে দলীয় প্রতীক নিয়ে লড়বে।

বিএনপি এই ২৯২টি আসনসহ ৩০০ আসনে বিকল্প প্রার্থীসহ ৩৩১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিল। ইসির শুনানিতে দলটির চারজন প্রার্থী বাদ পড়েন। তারা হচ্ছেন– দ্বৈত নাগরিকত্বের দায়ে আবদুল গফুর মিয়া (কুমিল্লা-১০) এবং ঋণখেলাপির দায়ে সারোয়ার আলমগীর (চট্টগ্রাম-২), মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী (কুমিল্লা-৪) ও টি এস আইয়ুব (যশোর-৪)।

যশোর-৪ আসনে মতিয়ার রহমান ফরাজী বিকল্প প্রার্থী হিসেবে থাকায় এ আসন নিয়ে সংকট নেই বিএনপির।

কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলীয় প্রার্থী হিসেবে দাবি করলেও বাছাইয়ে বাদ পড়েন তিনি। পরে তিনি ইসিতে আপিল করেননি।

এ ছাড়া কুমিল্লা-৪ ও চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি ও তার জোটের বিকল্প প্রার্থী না থাকায় আপাতত আসন দুটি প্রার্থীশূন্য। তবে এই দুই আসনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং সারোয়ার আলমগীর জানিয়েছেন, ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

এদিকে ঋণখেলাপির দায়ে বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বাছাইকালে বাদ দিলে ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি। এই জোটের অন্য সাত প্রার্থীর মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ হয়েছিল। ফলে এই আটটি আসনে প্রার্থিতা নিয়ে সংকটে নেই বিএনপি ও তার জোট।

জামায়াত জোটে প্রার্থী সংকট নেই

জামায়াতে ইসলামী মোট ২৭৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইকালে কক্সবাজার-২ আসনে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদসহ আটদলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ছাড়াও মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় বাদ পড়েন তারা। ইসির আপিল শুনানি করে তাদের সবাই প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

এই জোটের শরিক এনসিপি ছাড় পেয়েছে ২৭ আসনে। এই ২৭টি আসনসহ ৪৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে এনসিপি। এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্বের দায়ে বাছাইয়ে বাদ পড়েন এনসিপির একমাত্র প্রার্থী সিলেট-১ আসনের এহতেশামুল হক। ইসির আপিল শুনানিতে তাঁর মনোনয়নপত্র টিকে যায়। অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যে এলডিপির এক প্রার্থী আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ছাড় পাওয়া তিন আসনে আগেই মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

এ ছাড়া অন্য শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) এবং নেজামে ইসলাম থেকে দুই-একজন বাদ পড়লেও সেখানে জোটের বিকল্প প্রার্থী রয়েছেন। এর বাইরে জোটগত সমঝোতার কারণে শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়া আসনগুলো থেকে জামায়াত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। ফলে এই জোটে প্রার্থিতা নিয়ে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন দল ও জোট নেতারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X