বৃহস্পতিবার
১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় ১২ নেত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
জামায়াতের লগো
expand
জামায়াতের লগো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ১২ জন নারী নেত্রীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগেই মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জামায়াতের নীতিনির্ধারণী ফোরাম যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। দলীয় সূত্র বলছে, নবীন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে ১২ মার্চ। তার আগে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী নির্ধারণ করতে চায় দলটি। সেই লক্ষ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করে দলের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জামায়াতের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যেসব অঞ্চলে দলটি সরাসরি আসন পায়নি, সেসব অঞ্চল থেকে নারী প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের উচ্চকক্ষ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নারী নেতৃত্বকে প্রস্তুত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয়জন সাধারণ সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়া যায়। সে হিসেবে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াতের ভাগে পড়তে পারে ১১টি আসন।

এই প্রেক্ষাপটে মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম জমা দেওয়া হয়েছে। দলীয় ফোরামের পরামর্শের ভিত্তিতে দলীয় প্রধান এই তালিকা থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করবেন।

জামায়াত সূত্রের দাবি, তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেত্রী, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে পরিচিত মুখ এবং বিভিন্ন স্তরের নারী সংগঠকরা রয়েছেন।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী ও দলের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ড. ফেরদৌস আরা বকুল, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, ডা. আমিনা বেগম, শাহানারা বেগম, বেগম রোকেয়া আনসার, এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী, খোন্দকার আয়েশা বেগম, ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী, সাঈদা রুম্মান এবং জান্নাতুল কারীম। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের সময় এই তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, অতীতেও সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় দলটির চারজন নারী সদস্য সংরক্ষিত আসনে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। এর আগে ১৯৯৬ সালেও জামায়াতের দুই নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের মনোনীত সদস্য ছিলেন জামালপুরের সুলতানা রাজিয়া, সিলেটের ডা. আমিনা বেগম, রাজশাহীর শাহানারা বেগম এবং সাতক্ষীরার বেগম রোকেয়া আনসার। দলীয় সূত্র বলছে, বর্তমান সম্ভাব্য তালিকায় তাদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন অধ্যাপক নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, নবীন ও অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্বের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে তালিকার বাইরে থেকেও কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে জামায়াতের নারী নেত্রীদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তুলনামূলক কম দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দলটির নারী শাখা প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়েছে। গণমাধ্যমের আলোচনাতেও বেশ কয়েকজন নেত্রীর উপস্থিতি বাড়ছে।

বিশেষ করে ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, ড. ফেরদৌস আরা বকুল, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ ও এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নীর নাম আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও টেলিভিশন আলোচনায় তাদের দেখা যাচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নীকে ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংরক্ষিত আসনের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী।

এছাড়া টেলিভিশন টকশোতে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

অধ্যাপক নুরুন্নিসা সিদ্দিকা জানান, যেসব এলাকায় দলীয় সংসদ সদস্য কম রয়েছে বা কেউ নির্বাচিত হননি, সেসব অঞ্চলের নারী প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাব, পেশাগত যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অতীতে নির্বাচনী অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নুরুন্নিসা সিদ্দিকার ভাষায়, “স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তি, বুদ্ধিমত্তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বক্তব্য উপস্থাপনের সক্ষমতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন