

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের মিশন প্রধান শিকদার মো. আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রমকে ধারণ না করা এবং কলকাতায় বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তারিক চয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করে শিকদার মো. আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন, যার ফলে নতুন করে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টের পর ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
গত ৮ মার্চ তারিক চয়ন তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মিশন প্রধানের বিরুদ্ধে বিস্তর এক পোস্টে কূটনীতিকের নিরপেক্ষতা এবং আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করেছেন।
ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, কলকাতায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার তথা মিশন প্রধান শিকদার মো. আশরাফুর রহমান যিনি মুখে বলেন, "আমরা সরকারের লোক, যখন যেই সরকার আসে তার লোক।" কিন্তু, তার মুখের বুলির সাথে কাজের কোনো মিল নেই। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) বিপক্ষে কাজ করাই যেনো তার ব্রত।
তারিক চয়ন লিখেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে।
ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সবকয়টি মিশনের ফেসবুক পেইজ থেকে খুব স্বাভাবিকভাবেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত সংবাদ পোস্ট বা শেয়ার করা হয়।
এছাড়া, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণে ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করতে বাংলাদেশে গমন করেন সেটিও সবকয়টি মিশন গুরুত্বসহকারে প্রচার করে। কিন্তু, একমাত্র ব্যতিক্রম কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের ফেসবুক পেইজ।
সেখানে ১২ তারিখের নির্বাচনের পর বিএনপি'র জয় কিংবা নতুন প্রধানমন্ত্রী তথা নতুন সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের কোনোকিছুই পোস্ট করা হয়নি।
যেনো বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন-ই হয় নি! তাছাড়া, এই মিশন যেখানে (ভারত) অবস্থিত সেই দেশের স্পিকার স্বয়ং বাংলাদেশে গিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে বার্তা দিয়েছেন সেটিরও উল্লেখমাত্র নেই!
এছাড়াও তারিক চয়ন মিশন প্রধান শিকদার মো. আশরাফুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন নিজের পোস্টে।
ফেসবুকে উপহাইকমিশনের ফেসবুক পেইজে গিয়ে দেখা যায়, তারিক চয়নের অভিযোগের সত্যতা রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠন বা এর পরবর্তী কোনো কার্যক্রম নেই মিশনের ফেসবুক পেইজে। তবে তারিক চয়ন সমালোচনা করে পোস্ট করার পর ৮ মার্চে নারী দিবসে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বাণী দুদিন পর অর্থাৎ ১০ মার্চ পোস্ট করা হয়।
তারিক চয়ন সরাসরি ফেসবুকে পোস্ট করলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একাধিক সূত্র জানায়, মিশন প্রধান ও তার তৈরি সিন্ডিকেট বিভিন্ন অনিয়ম ও বেআইনি কাজে লিপ্ত। যারমধ্যে অন্যতম, কিডনি প্রতিস্থাপন করতে গেলে এনওসি দেয়ার সময় নানান জটিলতা তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি হাইকমিশনার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান বা কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তবে এসব বিষয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের মিশন প্রধান শিকদার মো. আশরাফুর রহমান এনপিবিকে বলেন, প্রেস সেক্রেটারি তারিক চয়নের ফেসবুক পোস্ট আমি দেখেছি। উপহাইকমিশনের ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট দেয়া চলমান ও প্রক্রিয়াধীন। বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন