মঙ্গলবার
০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন নিয়মে অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর লোগো
expand
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর লোগো

প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬’ নামে জারি এই নীতিমালা অনুযায়ী, এবার থেকে বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত নীতিমালাটি গতকাল (মঙ্গলবার) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে বৃত্তি সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এই নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তবে বিশেষ ব্যবস্থায় ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাও এই নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হবে।

অংশগ্রহণের যোগ্যতা নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুসরণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনলাইন সিস্টেম ‘আইপিইএমআইএস’-এ সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পরীক্ষা ও মানবণ্টন নতুন নীতিমালায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা মোট ৪০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান (সমন্বিত) বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ নম্বর করে বরাদ্দ থাকবে। প্রতিটি বিষয়ের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।

এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।

বৃত্তির ধরন ও কোটা নীতিমালা অনুযায়ী, দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে—ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি। উভয় ক্ষেত্রেই ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী নির্বাচিত হবেন।

মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ট্যালেন্টপুল বৃত্তি উপজেলা বা থানা ভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডকে ইউনিট ধরা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে দুজন ছাত্র, দুজন ছাত্রী এবং একজন মেধা কোটাসহ মোট পাঁচ জনকে সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে।

তদারকিতে বিভিন্ন কমিটি বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপদেষ্টা এবং সচিব সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর নেতৃত্বে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৮ সালে জারি করা প্রাথমিক শিক্ষা বৃত্তি নীতিমালাসহ এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সব নীতিমালা বাতিল বলে গণ্য হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন