

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ১২ মে রাতে এক নারী শিক্ষার্থীর ওপর ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন তীব্রতর হয়েছে।
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পার হওয়ার পর প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। প্রক্টর অফিসের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৬ মে) রাত ২টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা।
সকাল ৯টা পর্যন্ত অবস্থানের পর তারা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ১৩ মে আমরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করে অপরাধীকে গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম।
সংবাদ সম্মেলনের পর তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি বলেন, ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন ১৩ মে নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।
একই সঙ্গে অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাত দুইটা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।
ফারজানা তাবাসসুম বলেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল- ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অপরাধী গ্রেপ্তার হননি।
উল্টো প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো তিনি উপস্থিত থেকে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা স্বীকারও করেন।
কিন্তু পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করে। এটিকে তাঁরা ‘প্রশাসনিক অসততা’ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘বেইমানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘একজন উপাচার্যের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সত্য প্রকাশ করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রশাসন বরং নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই ব্যস্ত থেকেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারা রাতের অবস্থান কর্মসূচিতে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবু তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যান। সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ পাননি; বরং টালবাহানা, দায় এড়ানোর চেষ্টা ও অসংবেদনশীল আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
ভোর পর্যন্ত প্রক্টর আন্দোলনকারীদের সামনে আসেননি। পরে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে প্রক্টর আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে আখ্যা দেন। তাঁদের ভাষ্য, এই বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন নারী শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা। সারা রাত অবস্থানের পর আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে হলে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।