শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় আট কোম্পানির অধীনে ৬৯০ এসি বাস চালুর অনুমোদন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে নতুন করে ৬৯০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চালানোর অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি। আটটি পরিবহন কোম্পানিকে এসব বাস পরিচালনার জন্য রুট পারমিট প্রদান করা হয়েছে। যাত্রীসেবাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বাস নামানোর আগে যাত্রী চাহিদা, স্টপেজ পরিকল্পনা এবং বাসের সময়সূচি বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, শুধু বাস বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা।

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় রুট অনুমোদন, নতুন রুট নির্ধারণ ও পরিবহন কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে ঢাকা মেট্রো যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি। ডিএমপি কমিশনার এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ সভায় কয়েকটি কোম্পানির এসি বাস পরিচালনার আবেদন অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে শাপলা পরিবহন সবচেয়ে বেশি, ২০০টি বাস চালানোর অনুমতি পেয়েছে। তাদের বাস চন্দ্রা থেকে ধোলাইখাল রুটে চলবে। এছাড়া চিত্রা পরিবহন ১২০টি, টাইম বার্ড এক্সপ্রেস ১০০টি এবং স্প্রিন্ট শ্যাটল দুটি আলাদা রুটে মোট ১০০টি বাস পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি ইকবাল এন্টারপ্রাইজ ও নিউ ঢাকা পরিবহন ৫০টি করে, ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস ৪০টি এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট লাইন ৩০টি এসি বাস পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল এন্টারপ্রাইজ উত্তরার পঞ্চবটী থেকে কেরানীগঞ্জ রুটে, নিউ ঢাকা পরিবহন সাইনবোর্ড থেকে গাজীপুর শিববাড়ি রুটে, ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস সিএমএইচ (ঢাকা সেনানিবাস) থেকে জলসিঁড়ি অফিস পর্যন্ত দুটি ভিন্ন ভায়া রুটে, টাইম বার্ড এক্সপ্রেস সাভার থেকে কালিগঞ্জ বাজার রুটে, শাপলা পরিবহন চন্দ্রা থেকে ধোলাইখাল রুটে, স্প্রিন্ট শ্যাটল বাড়ইপাড়া থেকে চিটাগং রোড এবং বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল থেকে পঞ্চবটী রুটে, চিত্রা পরিবহন সাভারের নন্দনপার্ক থেকে মদনপুর রুটে এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট লাইন কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের বন্দর রুটে তাদের বাসগুলো পরিচালনা করবে।

কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন বাসগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে অটো-ডোর ও ই-টিকেটিং সুবিধা থাকতে হবে। এছাড়া পুরোনো চুক্তিভিত্তিক (কন্ট্রাক্ট) পদ্ধতি বাদ দিয়ে কাউন্টারভিত্তিক সেবা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই কোম্পানির সব বাসে অভিন্ন রং ব্যবহার এবং রুট নম্বর ও কোম্পানির নাম স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম মনে করেন, এসি বাস বাড়লে সাধারণ বাসের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। তবে আলাদা আলাদা রুটে ভিন্ন ভাড়া নির্ধারণের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ভাড়া কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।

অন্যদিকে, সরকার এসি বাসের জন্য পৃথক ভাড়া নির্ধারণের কাজ করছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, কোনো রুটে বাস চালুর আগে যাত্রী চাহিদা, স্টপেজের অবস্থান এবং বাস চলাচলের সময়সূচি বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও বাংলাদেশে এখনো অনেক ক্ষেত্রে তা অপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীর ১২৮টি রুটে ৭ হাজার ৯১টি বাস নিবন্ধিত থাকলেও বাস্তবে রাস্তায় চলে মাত্র ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার বাস। এর মধ্যে নিজস্ব রুটে চলছে ৩ হাজার ৪২৭টি বাস। অন্য রুটে যাতায়াত করছে ২ হাজার ১৮টি। ১ হাজার ৬৪৬টি বাসের কোনো রুট পারমিটই নেই। ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অনুমোদিত বাস রুটে রয়েছে ৩৮৮টি। যদিও ২৫০টিরও বেশি রুট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন