

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অতীতের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, মানসম্মত, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, নতুন বইয়ে বানান ভুল, অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু কিংবা নিম্নমানের মুদ্রণের কোনো সুযোগ রাখা হবে না।
রোববার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপিতে অসংখ্য বানান ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গ্রুপভিত্তিক নিবিড় পর্যালোচনার মাধ্যমে বই প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতের সব ত্রুটি দূর করে শতভাগ নির্ভুল পাঠ্যবই তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে কাগজ ও মুদ্রণের মান নিয়েও কোনো আপস করা হবে না।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, নতুন বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের ছবিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে তা শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ছবিগুলো শুধু অলংকরণ নয়, শেখার আগ্রহও বাড়াবে।
তিনি জানান, চারটি নতুন বইয়ের পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দলকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রীড়াবিষয়ক অধ্যায়ের চূড়ান্ত মতামত দিতে বলা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উপকমিটিও তাদের সুপারিশ জমা দেবে। এরপর পাণ্ডুলিপির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পরই ২০২৮ সালের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের বই তৈরির কাজ শুরু হবে। আগামী ১ আগস্ট থেকে সেই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আরও উন্নত মানের পাঠ্যবই প্রস্তুত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তার ভিশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আধুনিক, আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
