

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারায় উচ্চ গতি দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে এসেছে ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ (১.৯৪৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি!
রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং ডলারবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই একদিনে দেশে এসেছে ১৪ কোটি (১৪০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে ১৬ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনে সংশোধিত হিসাবে এসেছে ১৬ কোটি ৬০ লাখ (১৬৬ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে ১ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত দেশে এসেছে ১৯৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৫২ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪২ কোটি ১০ লাখ ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, হুন্ডি দমনে কঠোর নজরদারি, বিনিময় হার তুলনামূলক বাজারমুখী হওয়া এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে গণনা করা অফিশিয়াল রিজার্ভ প্রায় ৩১ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩১৭ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আমদানি বিল পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ধরে রাখতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থবছরের শুরুতেই প্রায় ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা গেলে আগামী মাসগুলোতেও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ডলারবাজারে হস্তক্ষেপের চাপ কমবে এবং টাকার বিনিময় হারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই ধারা ধরে রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রণোদনা, দ্রুত সেবা এবং হুন্ডি দমনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। এই অর্থ আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের দায় মেটানো, ডলারের সরবরাহ বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।