মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ জুলাই থেকে ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে আগামী ১ জুলাই থেকে এ-চালান বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কিংবা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে।

পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যখন এ-চালান প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, লেনদেন ও আদায়ের পরিমাণে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। সর্বশেষ অর্থবছরের পরিসংখ্যান বলছে, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এ-চালান এখন একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল অবকাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থবছরভিত্তিক এ-চালান প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আদায় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালানের মাধ্যমে এ-চালান ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল।

সাত অর্থবছরে প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে এবং সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

সাম্প্রতিক তথ্য আরও ইঙ্গিত দেয় যে, এ-চালান এখন শুধু একটি প্রযুক্তিনির্ভর পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার একটি নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠছে। কারণ, একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ও লেনদেনের সংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকায়।

একই সঙ্গে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমেও ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

এ-চালানের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ফলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে এবং নগদ ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

অতীতে সরকারি ফি বা রাজস্ব জমার জন্য অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যেতে হতো। এতে সেবাগ্রহীতাদের সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় হতো। পাশাপাশি সরকারি কোষাগারে অর্থ স্থানান্তরে বিলম্ব, হিসাব সমন্বয়ে জটিলতা এবং ভুয়া চালান তৈরির ঝুঁকিও ছিল। এ-চালান ব্যবস্থা এসব সীমাবদ্ধতা দূর করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে।

নাগরিকদের জন্য এ ব্যবস্থার অন্যতম বড় সুবিধা হলো যেকোনো স্থান থেকে সহজে সরকারি অর্থ পরিশোধের সুযোগ। অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালান রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হয়। ফলে নাগরিক সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হয়েছে।

সরকারের জন্যও এ-চালান বহুমাত্রিক সুবিধা নিশ্চিত করছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। ফলে প্রাপ্তির তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যায়, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হয়।

এ-চালানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো স্বয়ংক্রিয় হিসাব সমন্বয়। কোনো অর্থ জমা হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রেরিত ক্রেডিট স্ক্রল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইবাস++-এ আপলোড হওয়ায় হিসাব মিলানোর সময় ও ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও হিসাবরক্ষণ অফিসগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায়, লেনদেনের অবস্থা এবং জমার প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ফলে অস্বাভাবিকতা, বিলম্ব কিংবা সম্ভাব্য গরমিল দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া চালান যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনো চালানের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা করা যায়, যা ভুয়া চালান, জাল দলিল এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

উল্লেখ্য, বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগ ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ-চালান চালু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভুয়া চালান প্রতিরোধ এবং সরকারের নগদ অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Ivory Coast VS Norway
Scheduled
30 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup