

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাস হয়েছে। বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি সিদ্ধান্ত হলো, ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা এবং ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকে সরে আসা।
সোমবার (২৯ জুন) কণ্ঠভোটে অর্থবিল পাস হওয়ার আগে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বিভিন্ন সংশোধনী গ্রহণের পর বিলটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি তৈরি হলো।
প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে সংসদীয় আলোচনার পর সেটি বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তও প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আগের নিয়মই বহাল থাকছে।
জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন, বণ্টননামা এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে প্রস্তাবিত বিশেষ বিধানটি সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটও কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন অর্থবিলে স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব অলংকার কেনার সময় উৎসে কর কাটার বিধানও যুক্ত হয়েছে।
শিল্প খাতে ব্যয় কমাতে চিংড়ি, ওষুধ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে। কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। তবে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই বিধানের বাইরে থাকবে।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন সেবা নিতে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। বিভিন্ন সংশোধনী যুক্ত হওয়ার পর সেই বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থবিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলো।
