

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (টিআরসিএমআরপি) ঘিরে ভারতীয় উদ্বেগের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রতি নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, এই প্রকল্পে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং এটি কোনোভাবেই তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তা অববাহিকার ভৌগোলিক অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে নয়াদিল্লির মধ্যে কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে চীনা মুখপাত্র বলেন, চীন ও বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্পূর্ণ দ্বিপক্ষীয় এবং এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব বা উদ্দেশ্য নেই। তাঁর ভাষায়, এই ধরনের সহযোগিতা জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ, যা বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
চীন আরও জানিয়েছে, তিস্তা প্রকল্পকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ হিসেবে দেখছে এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন কৌশল, বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং জনকল্যাণমূলক খাতে বাংলাদেশ–চীন অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারণের আগ্রহও প্রকাশ করেছে বেইজিং।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষ এ বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা আগের ধাপগুলোর তুলনায় একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পে সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও চীন তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না একটি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করে।
তিস্তা ঘিরে এই কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
