

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রায় এক দশকের বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় প্রশাসনে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেলের সুবিধা কবে, কীভাবে এবং কারা পাবেন—এ নিয়ে এখনো স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। আর বাড়তি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে চালুর চিন্তাভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পুরো বেতনকাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করা সম্ভব হলে সেটিই সবচেয়ে ভালো হতো। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দুই ধাপে বাস্তবায়নের পথকেই বেশি বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এ জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণের কথাও জানানো হয়। তবে কোন পর্যায়ে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে কিংবা কোন শ্রেণির কর্মীরা আগে সুবিধা পাবেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ হয়নি।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নতুন পে স্কেলের প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচিত হলেও পেনশনভোগী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে এসব শ্রেণির কর্মীরা সরকারের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাজেটে সংরক্ষিত অর্থ সরাসরি ‘স্যালারি অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস’ খাতে না রেখে ‘নেট পাবলিক সার্ভিস’ শিরোনামে রাখা হয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অর্থ সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার সমন্বয়ে ব্যবহার করা হতে পারে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবও রয়েছে। তবে গ্রেডভিত্তিক চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, গেজেট এবং প্রথম ধাপে কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
এদিকে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিবসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাঁদের সুপারিশ ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ।
