

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীরা সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন ধারণা আরও জোরালো হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণবাজারে।
সোমবার (২৯ জুন) গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট মাসের জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০ দশমিক ০২ ডলারে।
এর আগে গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়। জুন মাসজুড়ে দাম ১০ শতাংশের বেশি কমার পথে রয়েছে, যা হলে টানা চতুর্থ মাসে পতনের রেকর্ড তৈরি হবে।
এরই মধ্যে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধবিরতি না মানলে ইরানের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষক রিকার্ডো এভানজেলিস্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছে, যার ফলে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সাধারণভাবে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও সুদের হার বেশি হলে এর আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এতে কোনো সুদ বা আয় পাওয়া যায় না।
বর্তমানে বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ তিন দফায় সুদের হার বাড়াতে পারে। ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ।
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের এডিপি কর্মসংস্থান তথ্য এবং নন-ফার্ম পে-রোল প্রতিবেদনের দিকে। এসব তথ্য ফেডের ভবিষ্যৎ নীতির দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত কর্মসংস্থান তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে ফেড আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে, যা স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার চাপ তৈরি করতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৮২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ দশমিক ০১ ডলার, অর্থাৎ ১ দশমিক ৬ শতাংশ পতন।
তবে প্যালাডিয়ামের বাজারে সামান্য উত্থান দেখা গেছে, যেখানে দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২১২ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
