

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেটে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী অর্থবছরের জন্য ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার বা কর্মপথ তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত রয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার লক্ষ্য সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সরকার আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেটের ১০ অগ্রাধিকার
১. সবার জন্য উন্নয়ন
দেশের সব অঞ্চল, শ্রেণি ও খাতের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
২. সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সব নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
৩. সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
সব বয়স ও শ্রেণির মানুষের জন্য জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
৪. বিনিয়োগ-নির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষিকেও কৌশলগত খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৫. বিধিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজীকৃত ব্যবসার পরিবেশ
অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে সহজ, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী ব্যবসা পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
৬. আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়িয়ে আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৭. জ্বালানি নিরাপত্তা
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৮. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক আইসিটি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
৯. প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, বনায়ন সম্প্রসারণ, নদী পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
১০. স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা এবং সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
