মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনটিআরসিএ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, ‘আন্দোলনের চেষ্টা’ বলে পোস্ট ডিলিট হামিমের

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম দাবি করেছেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

সোমবার (১০ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ দাবি করেন। তবে পোস্ট দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর সেটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেন ছাত্রদলের এই নেতা।

পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শেখ তানভীর বারী হামিমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ একটি পক্ষ বিষয়টিকে সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করছে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। এদিকে গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে এনটিআরসিএ আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না বলেও সেখানে বলা হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভাকে জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এর ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতি পঞ্জিকা বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এনটিআরসিএ সর্বশেষ ২০২৩ সালে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করার কথাও বলা হয়েছে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগের সুপারিশ করার পর বিভিন্ন জটিলতা, মামলা ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের মতো সংস্থাটিকে কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার মত দেন শিক্ষামন্ত্রী। প্রত্যয়নপত্র পাওয়া শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে বর্তমান সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে তিনি মত দেন। সভায় উপস্থিত সবাই শিক্ষামন্ত্রীর এ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী সংস্থাটি আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন অথবা জারি করার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ, হামিম তার পোস্টে মন্ত্রণালয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দাবি করলেও ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীতে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন