

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব নেওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন তিনি।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন এবং জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীও মনোনয়ন চাইতে পারেন। মির্জা ফখরুলের মেয়ে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী চিকিৎসাবিজ্ঞানী শামারুহ মির্জার নামও আলোচনায় রয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন।
মির্জা ফয়সল আমিনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনই আবার মাঠে থাকছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, মাঠে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।
কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তারা নির্বাচনী কর্যক্রম শুরু করবেন। দেলাওয়ার হোসেনই প্রার্থী হবেন বলে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ভোটে প্রভাব ফেলেছে কি না, উপনির্বাচনে তা বোঝা যাবে। বিএনপির নতুন প্রার্থীকে তার পাওয়া ভোটের বড় অংশ ধরে রাখার সক্ষমতা দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী বাছাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, মির্জা ফয়সল আমিন প্রার্থী হলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তার পক্ষে থাকবে। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত ইমেজের সঙ্গে তার ছোট ভাইয়ের ইমেজ এক নয়। ফলে বিএনপির ভোট কিছুটা কমতে পারে।
তিনি বলেন, দেলাওয়ার হোসেন গত নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন। জামায়াতও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করবে। তবে সার্বিক বিবেচনায় মির্জা ফয়সল আমিনের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও উভয় দলের মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে সংগঠন ও কর্মীদের সক্রিয়তা উপনির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


