মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী চলে গেলেন প্রেমিকের সঙ্গে, দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

১৭ বছরের দাম্পত্যজীবনের ইতি টেনে তিন সন্তানকে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রী চলে যাওয়ায় ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ করেছেন সোহেল আহমদ রানা (৩৯)। স্ত্রীর চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করেছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কলাউড়া গ্রামে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে স্ত্রীকে আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক দিয়ে নিজ বাড়িতে দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি। ইতিমধ্যে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোহেল আহমদ রানা জানান, ২০০৯ সালে পরিবারের পছন্দে গরোয়া গ্রামের মাহমুদা আক্তারকে (৩৫) বিয়ে করেন। দাম্পত্যজীবনের পর একসময় তিনি সৌদি আরবে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে মাহমুদা তার মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া জন্য পূর্ব পরিচিত ও দূর সম্পর্কের ভাগিনা উত্তর কলাউড়ার খোয়াজ আহমদ ফয়েজের দোকানে পাঠান।

খোয়াজও বিবাহিত, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সেখান থেকেই শুরু হয় পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক। সোহেল রানা বিষয়টি টের পেয়ে স্ত্রীকে বারবার বারণ করলেও তিনি শোনেননি। গত মঙ্গলবার রাতে প্রেমিক খোয়াজের বাড়িতে চলে যান মাহমুদা আক্তার।

পরবর্তীতে শনিবার বিকেলে উভয় পক্ষের মুরুব্বি ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক প্রদান করেন সোহেল রানা। এরপরই বাড়িতে ৪০ লিটার দুধ এনে গোসল করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোহেল রানা দুধ দিয়ে গোসল করার সময় বলছেন, ‘১৭ বছরের সংসারজীবন থেকে মুক্তি পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করছি, আল্লাহ যেন আমার স্বপ্ন পূরণ করেন। আমি এখন পবিত্র হলাম, আগে অপবিত্র ছিলাম।’

সোহেল রানা আরও বলেন, আমার মা পছন্দ করে যাকে ঘরে এনেছিলেন, সেই বউ আমার মান-সম্মান সব শেষ করে দিয়েছে। ওই পরকীয়া প্রেমিকের পেছনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা নষ্ট করেছে। শেষমেশ সন্তান ও সংসার ফেলে চলে গেল। তাই তাকে তালাক দিয়ে আমি দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে মুক্ত করলাম।

এদিকে শনিবার রাতে মাহমুদার প্রেমিক খোয়াজ আহমদ ফয়েজকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মাহমুদার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় খোয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরো বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন