

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কবিরহাট উপজেলায় একটি ভয়াবহ ঘটনায় ছয়টি মামলার জড়িত একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অপরাধীকে 'ডাকাত' হিসেবে চিহ্নিত করে কয়েকজন যুবক স্থানীয় বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত প্রায় ১০টার সময় উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারের কাছাকাছি কাজী বাড়ির সামনের রাস্তায়। নিহত ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫), যিনি কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মো. শহীদের সন্তান। তাঁর দুটি সন্তান ছিল।
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের তথ্য অনুসারে, মিজানুরের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরির, একটি অস্ত্র সংক্রান্ত এবং সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার মতো অন্তত ছয়টি মামলা চলছিল। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির একটি নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মিজান সেখানে হাজির হয়ে নিজেকে দলের প্রাক্তন কর্মী বলে দাবি করেন এবং উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি ও অভদ্র বাক্যালাপে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তাকে তাড়া করলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
কিছুক্ষণ পর কাজী বাড়ির উত্তর দিকে তাকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি এবং লোহার পাইপ দিয়ে মাথা ও মুখে নির্মমভাবে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার মতে, মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি এবং সাধারণ মানুষকে উত্পীড়নের অভিযোগ ছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করে। সেখান থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি এবং একটি লোহার পাইপ পাওয়া যায়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন জানান, বৈঠকের সময় মিজানের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এবং তিনি চলে যান। পরে তার হত্যার খবর শুনি, কিন্তু মিষ্টি বিতরণের বিষয় আমার জানা নেই।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনে একজন 'ডাকাত' নিহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সুরতহাল প্রস্তুত হয়েছে এবং নিহতের পকেট থেকে খেলনা পিস্তল ও ছুরি পাওয়া গেছে। তার পরিবার এখনো কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি, তবে অভিযোগ এলে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
