

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে দখল ও দূষণের শিকার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভা ও পঞ্চসার ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী নয়নের খাল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। পরিদর্শন শেষে তিনি খাল উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে মিরকাদিমের রিকাবীবাজার এলাকায় খাল পরিদর্শন শেষে মিরকাদিম পৌরসভা ও পঞ্চসার ইউনিয়নের মধ্যবর্তী অংশে উদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খাল যেভাবে দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করা হবে এবং পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়। খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা খালের জায়গা দখল করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত খালটি বর্তমানে কোথাও ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে। আবার কিছু অংশে খালের অস্তিত্বই প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানান, খালটির দুই তীরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে পরিবেশের উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত খাল উদ্ধার ও পুনঃখননের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে প্রতিমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের পর এবার বাস্তব পদক্ষেপের আশা করছেন তাঁরা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সারা দেশে নদী ও খাল রক্ষায় কাজ করছে। নয়নের খালের ক্ষেত্রেও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না। কেউ যাতে পুনরায় খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণমুক্ত হয়ে নয়নের খাল আবারও তার হারানো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরে পাবে।