

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা পরিষদের আইসিটি অফিসার মাহমুদুর রহমান (৩৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে জীবননগর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি বসতিপাড়ায় ওয়াহেদ বিশ্বাসের বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
জানা যায়, মাহমুদুর রহমানের তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী ইতি খাতুন বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হতো বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া হলেও তা পরে মিটে যেত। ঘটনার আগের রাতে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়নি। সকালে মাহমুদুর রহমান ঘুম থেকে উঠে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাইরে যান। পরে বাসায় ফিরে একটি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় তিনি ডাকাডাকি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের পিতা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং খোঁজখবর নেন। এরপর হঠাৎ করেই ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর আমরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারি।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।