

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের বাজারে চলমান ৮টি ব্র্যান্ডের রং ফর্সাকারী ক্রিমে মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার 'মার্কারি' বা পারদের উপস্থিতি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকি বিবেচনায় এসব ক্ষতিকর স্কিন ক্রিম বিক্রয়, বিতরণ, মজুত ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী এ সংস্থাটি।
সম্প্রতি খোলাবাজার থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রসাধনীর নমুনা বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হলে এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে আসে।
বিএসটিআই জানায়, এসব পণ্যে বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী অনুমোদিত সীমার তুলনায় বহু গুণ বেশি মার্কারি রয়েছে। ফলে এসব ক্রিম বিক্রি, বিতরণ, মজুত ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই এ তথ্য জানায়।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, বিএসটিআই নির্ধারিত বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২) অনুযায়ী স্কিন ক্রিমে মার্কারির সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ১.০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)। কিন্তু চিহ্নিত ৮টি ব্র্যান্ডের ক্রিমে মার্কারির পরিমাণ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহু গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
ল্যাব টেস্টে দেখা যায়-পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ‘ডিউ বিউটি ক্রিম’-এ সর্বোচ্চ ১২৩.৩৭ পিপিএম এবং এস.জে এন্টারপ্রাইজের ‘চাঁদনি হোয়াইটেনিং ক্রিম’-এ ১২০.৩৯ পিপিএম মার্কারি রয়েছে। এছাড়া নুর এন্টারপ্রাইজের ‘নুর হোয়াটেনিং ক্রিম’-এ ৮২.৭৬ পিপিএম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের ‘নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিম’-এ ৭৯.৭০ পিপিএম ও ‘নাভিয়া বিউটি ক্রিম’-এ ৫৯.৮২ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকসের ‘গৌরি বিউটি ক্রিম’-এ ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং কিউসিআই কোম্পানির ‘নিউ ফেস বিউটি ক্রিম’-এ ৪৪.৭২ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে। চীনের জিএলডিজেবি কসমেটিকসের ‘ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিম’-এ মার্কারির উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৬৭.৪৯ পিপিএম।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মার্কারিযুক্ত ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী কালো দাগ, এলার্জি, কিডনির মারাত্মক ক্ষতি ও স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি গর্ভবতী নারীরা এসব প্রসাধনী ব্যবহার করলে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ গুরুতরভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। ক্ষতিকর ও অনুমোদনহীন প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ক্রেতাদের প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন যাচাই করা এবং অননুমোদিত কিংবা সন্দেহজনক রং ফর্সাকারী ক্রিম কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।