

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সন্তান জন্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হাজারো মায়ের পাশে থেকেছেন মানিকগঞ্জের হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম। দীর্ঘ ৩৬ বছরের কর্মজীবনে তিনি প্রায় ১০ হাজার নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করে গড়েছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
জানা যায়, ১৯৯০ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা হিসেবে চাকরি শুরু করেন তিনি। এরপর শিবালয়, হরিরামপুর, সিংগাইর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৩ সালে অবসরে যান।
চাকরি জীবনের পুরো সময়জুড়ে বিনামূল্যে ও নিরাপদ নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে অসংখ্য মায়ের মাতৃত্বের যাত্রাকে সহজ করেছেন তিনি। মিডওয়াইফারি ও এমআর বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই সেবাকর্মী বর্তমানে নিজ এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত ১০ শয্যা বিশিষ্ট "হাটিপাড়া সেবা সদন হাসপাতাল" থেকে স্বল্প খরচে প্রসূতি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ৩৫ জন প্রসূতির সফল নরমাল ডেলিভারি করান তিনি। মানবিকতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কারণে আজও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন তার কাছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিজা আক্তার বলেন, আমার মেয়ের জন্মও হুমাইয়ারা ভাবির হাতেই নরমাল ডেলিভারিতে হয়েছিল। আজ আমি আবার আমার মেয়ের ডেলিভারি করাতে এসেছি। তিনি খুব যত্ন নিয়ে ব্যথামুক্তভাবে ডেলিভারি করান। আমরা তার ওপর ভরসা পাই।
সদ্য মা হওয়া এক নারী বলেন, ওনাদের উপর ভরসা পাই। এই হাসপাতালের খোজ পেয়ে এখানেই চেকাপ করিয়েছি নিয়মিত। কালকে এখানে ভর্তি হয়েছি আজ আমার পুত্র সন্তান হয়েছে। আমরা দুজনেই সুস্থ আছি।
বালিরটেক গ্রামের খাদিজা বেগম বলেন, আমার নাতনি নিয়ে আসছি। এখানে কাটা ছেড়া করা লাগে না, ব্যাথা ছাড়াই ডেলিভারি হয়। এখানে খুব সুন্দর ভাবে নরমাল ডেলিভারি করে। বাহিরে সিজার করতে গেলে অনেক সমস্যা হয়, ভয় থাকে। এজন্য এই হাসপাতালে ভরসা পাই আমরা।
নিলুফা বেগমের ছেলে ডা. হিফজুল আল মঈন বলেন, অত্র এলাকায় কোন হাসপাতাল নেই। আমার আব্বুর ইচ্ছাতেই মা এর সাথে এই হাসপাতাল পরিচালনা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই মা ও শিশুদের মৃত্যু হাড় কমানো এবং গ্রামের মানুষের পাশে থেকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া।
হুমাইয়ারা নিলুফা বেগম বলেন, শিশু ও তার মায়েদের মৃত্যু হাড় কমাতে আমি নরমাল ডেলিভারি করতে শুরু করি। পরবর্তীতে সরকার থেকে আমাকে এই বিষয়ে বিশেষ ট্রেনিং এর সুযোগ করে দেন। আমি ৩৬ বছরে প্রায় ১০ হাজার বাচ্চা প্রসব করিয়েছি। সরকারি চাকুরী থেকে অবসরের পর স্বামীর শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী আমি আর আমার ছেলে মিলে এই হাসপাতাল পরিচালনা করছি। খুবই স্বল্প মূল্যে পরিক্ষা নিরিক্ষা এবং ডেলিভারি করে থাকি আমরা। আমরা চাই গ্রামের মানুষ যেন সচেতন থাকে। মা ও শিশুর মৃত্যু ঝুকি না থাকে এবং গ্রামের মানুষ যেন সুচিকিৎসা পায়।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আইভী ফেরদৌস বলেন, সরকার থেকে নরমাল ডেলিভারির জন্য সবাইকে সচেতন করা হচ্ছে। যারা নরমাল ডেলিভারিতে অভিজ্ঞ বা বেশি বেশি নরমাল ডেলিভারি করিয়ে থাকেন তাদের আমরা পুরস্কৃত করে থাকি।