

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চঁর বাজার সংলগ্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বন্যায় তলিয়ে গেছে শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, উঠান ও স্থানীয় ধর্মশালা। আকস্মিক এই পানিবন্দি দশায় চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন এই অঞ্চলের শত শত বাসিন্দা। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, দৈনন্দিন যাতায়াত এবং শৌচাগার ব্যবহার নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এক চিলতে স্বস্তির খোঁজে মানুষের হাহাকার। অধিকাংশ বাড়ির আঙিনা ছাড়িয়ে ঘরের মেঝে এখন পানির নিচে। খাটের পায়া ছুঁয়েছে নোংরা পানি। বাধ্য হয়ে অনেকেই ঘরের ভেতরেই ইট, বাঁশ কিংবা কাঠের তক্তা বিছিয়ে কোনোমতে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করছেন। উনুন ডুবে থাকায় অনেক পরিবারে জ্বলছে না রান্নার আলো; দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষেরা। শুধু বসতবাড়িই নয়, জলাবদ্ধতার গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। মন্দিরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে নিত্যদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সড়ক নির্মাণের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। গ্রামের চারপাশে একের পর এক পাকা রাস্তা তৈরি করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা হয়নি পর্যাপ্ত ড্রেন কিংবা কালভার্ট। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো পথ না পেয়ে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে জলাবদ্ধতায়। বছরের প্রায় অর্ধেকটা সময়ই তাদের এমন জল-বন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়। ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র, বিছানা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। শৌচাগারগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি এলাকায় দেখা দিয়েছে সাপের উপদ্রব। বিষধর সাপের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে ছোট ছোট সন্তানদের মা-বাবার।
স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী বিষ্ণু চক্রবর্তী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের এই নরকযাতনা শুরু হয়। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। মন্দিরে যাওয়ার উপায় নেই, ধর্মশালাও পানিতে ডুবুডুবু। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই।"
আরেক বাসিন্দা দুর্লভ চন্দ্র পাল জানান, "চারপাশে রাস্তা ঠিকই হয়েছে, কিন্তু পানি নামার খাল বা ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমরা অথৈ জলে ভেসে যাই। দ্রুত পানি সরানোর ব্যবস্থা না করলে আমাদের এই কষ্ট শেষ হবে না।"
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ.এম ইবনে মিজান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং তা নিরসনে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।