

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। কয়েকদিন ধরে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘন কুয়াশা ও উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ এখন চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় এবং উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেড়েছে।
তীব্র শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতালে ২৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৫৪ জনই শিশু।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন ফাতেমা বেগম বলেন, “আমার পাঁচ মাস বয়সী ছেলের কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতে সর্দি ও জ্বর হয়। চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে, এখন কিছুটা সুস্থ।”
অনিকা নামে আরেকজন জানান, “ঠান্ডা লেগে আমার ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ জনের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। মৃতদের অধিকাংশই শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুস সংক্রমণে ভুগছিলেন।
মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান বলেন, “ঠান্ডার কারণে বাবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোরে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।”
মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “বাবার আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল। তবে কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এছাড়া প্রচণ্ড ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন ৬৪ বছর বয়সী মনিরা খাতুন ও ৬৫ বছর বয়সী সাবেক শিক্ষিকা উম্মে হানি। চিকিৎসকরা জানান, ফুসফুস সংক্রমণের কারণে তাদের শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জোবায়ের আহমেদ বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় ঠান্ডাজনিত ও ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শীতের প্রকোপ বাড়ায় বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। সবাইকে শীতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছি।”
মন্তব্য করুন
