

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক এখন অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দখলে চলে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা–ময়মনসিংহ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রতিনিয়ত এসব অটোরিকশার অবাধ চলাচল দেখা যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল তাদের স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এতে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। অনেক চালক ও পথচারী এসব অটোরিকশাকে মহাসড়কের জন্য ‘এটম বোমা’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কে ধীরগতির অটোরিকশা চলাচলের কারণে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে ওঠা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শুধু সড়ক নিরাপত্তার জন্যই নয়, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এখনই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এটি দেশ ও জাতির জন্য বড় ধরনের সংকটের কারণ হতে পারে।
তবে অটোরিকশা চালকদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু অটোরিকশার কারণে ঘটে না। লাইসেন্সধারী অন্যান্য যানবাহনও বিভিন্ন দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই শুধুমাত্র অটোরিকশাকে দায়ী করা সঠিক নয় বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিদ্ধান্ত পেলে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অন্যদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অমৃত সূত্রধর জানান, অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও ডাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত ছাড়া এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত না এলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।