

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এক বছর আগে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত 'সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট' পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হলেও আজও তা চালু হয়নি। এ অবস্থায় যেন বর্জের পাহাড় হয়ে উঠেছে পৌরসভার মীরগঞ্জ বাজারের একটি আবাসিক এলাকা। ফলে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।
জানা যায়, ৬.৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ১৭,১৬৮ জন। শুধু শহরে প্রতিদিন বর্জ্য হয় ২ টন। মানুষের ফেলে দেওয়া বিভিন্ন আবর্জনা ও মল-মুত্র থেকে শহরের পরিবেশ রক্ষায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২ দশমিক ০১ একর জমিতে নেওয়া হয়, 'পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রণমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প।' ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার ১শত ৬১ টাকা ব্যয়ে 'সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট'- এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'টার্ণ' ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট তা হস্তান্তর করে।
কিন্তু ১ বছর হলেও কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর লোকবল সংকটে কোনো কাজে আসছে না ৩ কোটি টাকার এ প্রকল্প। পৌরসভায় বর্জ্য পরিবহনের জন্য ৫টি সিএনজিচালিত অটোভ্যান, ২টি মিনি ট্রাক ও মানব বর্জ্য বহনে ২টি ট্যাংকার থাকলেও বর্জের পাহাড় হয়ে উঠেছে মীরগঞ্জ বাজারের একটি আবাসিক এলাকা।
সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট ঘুরে দেখা যায়, প্রস্তুত রয়েছে মানব বর্জ্য থেকে সুপেয় পানি তৈরির প্ল্যান্ট। যেখানে ছাঁকনিতে ফেলা হবে মানব বর্জ্য। পরে সেই বর্জ্যের পানি গিয়ে পড়বে তিন স্তরের পাথর ও মোটা বালুর তৈরি পরপর তিনটি ট্যাংকারে। পরিশোধন হয়ে তা যাবে গোলাকার ট্যাংকারে। যেখান থেকে সরবরাহ করা হবে বিশুদ্ধ পানি।
অন্য ভবনটি প্রস্তুত রয়েছে বিভিন্ন বর্জ্য থেকে জৈবসার উৎপাদনের জন্য। যেখানে বর্জ্য থেকে বাছাই করা হবে লোহালক্কড়, প্লাস্টিক ও পচনশীল দ্রব্য। পরে ওই পচনশীল বর্জ্য ও শুকনো মানব বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে জৈবসার।
সূত্র বলছে, এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ৫-৬ মাস ধরে পড়ে আছে এই 'সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্যের প্ল্যান্ট।' বর্জ্যের স্তুপ ঠেকাতে পাশে নিচু জায়গায় পোড়ানো হচ্ছে এসব বর্জ্য। পোড়ানো বর্জ্যের ধোঁয়ায় দুষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা বলেন, পরিবেশকে সুরক্ষা দিতে প্লান্টটি করা হলেও তা বন্ধ থাকায় ময়লা-টয়লা পোড়ানো হচ্ছে এখানে। ধোঁয়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। নিঃশ্বাস নেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। বেশি করে বিপদে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। তাই এটা তাড়াতাড়ি চালু দাবি জানান তারা।
প্ল্যান্টের ভেতরে থাকা সিএনজিচালিত অটোভ্যান চালক মহসিন আলী বলেন, '৫-৬ মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও লোকজনের অভাবে এখনো তা পুরোপুরি বন্ধ। ৫টি সিএনজি ভ্যানে আমরা আবর্জনা পরিবহন করি। বাকী দুটি মিনি ট্রাক ও দুটি ট্যাংকার থাকলেও ড্রাইভার একজন। গাড়িগুলো এখন পড়ে আছে। ফলে বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ বাদ দিয়ে শুধু শহর ও হাট-বাজারের ময়লা আনা হচ্ছে। আবর্জনার স্তুপ বেশি হওয়ায় এখন তা পুড়িয়ে ফেলতে হচ্ছে।'
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, 'প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজ শেষে ২০২৫ সালের ফেব্রয়ারিতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট থাকায় তা আমাদেরই দেখাশোনা করতে হয়েছে। বেতন-ভাতাও আমরা দিয়েছি। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে জৈবসার উৎপাদন করা হলেও তা এখন বন্ধ আছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত আমরা এর দেখাশোনা করব। এরপর পৌরসভার নিকট দায়িত্ব ছেড়ে দেব।'
কবে নাগাদ সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য প্ল্যান্টটি পুরোদমে চালু হবে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, 'লোকবলের অভাবে প্ল্যান্টটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের পর কমিটির সঙ্গে বসে কীভাবে এটি চালু করা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
মন্তব্য করুন