

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় স্ত্রীকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন-এমন ধারণা নিয়ে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এক যুবক।
তবে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন তাঁর স্ত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে মোহাম্মদ কাজল (২৮) বুড়িচং থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ওই ঘটনার খবর আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজলের স্ত্রী ইভা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ইভার গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। প্রথমে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত কাজল উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ইভা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।
বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, ভোররাতে কাজল তাঁর কাছে এসে জানান, তিনি স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ইভার বড় বোন নিপা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই বিদেশে যাওয়ার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন কাজল। টাকা না দেওয়ায় প্রায়ই ইভাকে মারধর করতেন। ঘটনার আগের দিনও তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, যৌতুকের টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে ইভাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত কাজল পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আহত নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।