

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা তিন দিনের মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় ছোট-বড় টিলাগুলো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দৃশ্যমান প্রস্তুতির অভাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ বশির আহমেদ বলেন, অতি ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
সরেজমিনে জঙ্গল সলিমপুর, সোনাইছড়ি, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বারৈয়াঢালা, লতিফপুর, ছোট দারোগারহাট এবং বাড়বকুণ্ড আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢাল ও খাঁজে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশই দিনমজুর, রিকশাচালক ও পোশাক কারখানার শ্রমিক।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৭ সালের ২১ জুলাই সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ পাহাড় ধসে তিন শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা এখনও মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ দেখা গেলেও এবার এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, টানা বৃষ্টি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অন্তত ১০০টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিবারগুলোকে স্থানান্তরের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের আশ্রয়ের জন্য সমতলের এসএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, টানা বৃষ্টির মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার করবে।