

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল যেন এখন অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে চিকিৎসার পাশাপাশি আরেক আতঙ্কের নাম। গত ২০ দিনে হাসপাতালটিতে অন্তত ২১টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ ভিড় করছেন হাসপাতালের পুলিশ বক্সে। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ।
শনিবার (১২ জুলাই) সকালেও চুরির শিকার হন বাঘারপাড়া উপজেলার মিনি বেগম ও জীবননগর উপজেলার নাসিমা বেগম। তাদের অভিযোগ, যথাক্রমে ৩ হাজার ২০০ টাকা ও সাড়ে ৬ হাজার টাকা চুরি হয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা পুলিশ বক্সে অভিযোগ করেন।
এর আগের দিন ১১ জুলাই রাবেয়া বেগম জানান, তার সাড়ে ৪ হাজার টাকা খোয়া গেছে। একই সময়ে মনিরামপুরের গুলশানারা বেগমের গলার সোনার চেইন ছিনতাই এবং নিপা খাতুনের ৭ হাজার টাকা চুরির ঘটনাও ঘটে। এছাড়া হাসপাতালজুড়ে মোবাইল ফোন চুরি যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এতসব ঘটনার পরও হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। জরুরি বিভাগের সামনে সার্বক্ষণিক পুলিশ ক্যাম্প, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং হাসপাতালের নিজস্ব আউটসোর্সিং ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে দেড় শতাধিক জনবল দায়িত্বে থাকলেও কেন থামছে না চুরি, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
অনেকের অভিযোগ, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। এতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুয়াইন সাফাত বলেন, হাসপাতাল কিংবা বাস টার্মিনালের মতো জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, চুরি প্রতিরোধে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন, জরুরি বিভাগ ও সিসিইউ এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এখন থেকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে কোনো স্থানে নজরদারির ঘাটতি না থাকে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকেও নিজেদের মালামাল সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু আশ্বাসে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উন্নতমানের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি, দর্শনার্থীদের নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং সন্দেহভাজন চোর চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি।
চিকিৎসা নিতে এসে যদি রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তাহলে তা শুধু হাসপাতাল প্রশাসন নয়, পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। তাই জনগণের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে চুরি বন্ধ করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।