

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একদিকে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। প্রতিদিন যেখানে হাজার কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি হয়। অন্যদিকে সেই বন্দরের ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছে ১৩৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যেখানে কোমলমতি শিশুদের পাঠ নিতে হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে। বিদ্যালয়ের তিনটি একাডেমিক ভবনের মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীকে একটি মাত্র ভবনে গাদাগাদি করে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগ।
বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, পরিত্যক্ত দুটি ভবনের দেয়াল ও ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস আগে ভবন দুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কিন্তু বিকল্প ভবনের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়ের একটি মাত্র ভবনেই সব শ্রেণির পাঠদান চলছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কোথাও বারান্দায়, কোথাও সিঁড়ির নিচে, আবার কোথাও অস্থায়ীভাবে তৈরি করা কক্ষে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। একটি কক্ষে ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থী থাকায় পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সীমিত জায়গায় শত শত শিক্ষার্থীকে নিয়ে পাঠদান চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একটি কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় পাঠদানে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। নতুন ভবন নির্মাণে আর দেরি হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সংকটে পড়বে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, প্রতিদিন সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তারা উদ্বেগে থাকেন। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিশুরা স্বাভাবিক পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীরাও জানায়, একটি কক্ষে অনেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে বসে ক্লাস করতে হয়। জায়গার সংকটের কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না। তারা নতুন ভবনে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে চায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পটির অনুমোদনও মিলেছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. রেহেনা বানু বলেন, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে পুরোনো ভবনগুলোর নিলাম প্রক্রিয়া চলছে। নিলাম শেষ হলেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে ওয়াহিদ বলেন, উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আটটি পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে সভা হয়েছে। ভবনগুলো নিলামের মাধ্যমে অপসারণের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে। আগামী অর্থবছরের শুরুতেই এ কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, যে বেনাপোল দেশের অর্থনীতিতে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য সচল রাখে, সেই বন্দরের সামনের শতবর্ষী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের কেন আজও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের জন্য অপেক্ষা করতে হবে?
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো প্রতিশ্রুতি নয় দ্রুত পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ করে নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হোক। কারণ, নিরাপদ বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়, এটি শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।