

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা তিনদিনের অবিরাম বর্ষণ আর মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের নিচু এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আকস্মিক এই প্লাবনে তলিয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক, ফলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীর পানি হু হু করে বাড়লেও তা এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দুই উপজেলার মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই বড় কোনো বন্যার আতঙ্ক। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশঙ্কা, বৃষ্টি না কমলে যেকোনো মুহূর্তে মাতামুহুরীর দুই কূল ছাপিয়ে গ্রাস করবে পুরো জনপদ। এলাকার প্রধান সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ার পাশাপাশি চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন স্থান ও উপজেলার কাকারা, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, বরইতলী, ডুলাহাজারা, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, সুরাজপুর-মানিকপুর ও বমু-বিলছড়ি ইউনিয়নসহ মাতামুহুরীর সকল নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ এলাকা গুলোতে পাহাড় ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় মাইকিং করা হচ্ছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন দেলোয়ার এনপিবিকে জানান- ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পর আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। উজান থেকে আসা ঢলের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে, সেজন্য উপকূলীয় সবকটি স্লুইস গেটের কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য একটি জরুরি ‘কন্ট্রোল রুম’খোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।