

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নতুন প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর সব এলাকার জন্য সুবিধাজনক ও মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ‘উত্তর ফটিকছড়ির সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে উপজেলার হেঁয়াকো, নারায়ণহাট ও বালুটিলা এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রামের বারৈয়াহাট-খাগড়াছড়ি ও কাজীরহাট-হেঁয়াকো সড়কে মানববন্ধন শুরু করেন। একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া উপস্থিতির কারণে সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া বালুটিলা এলাকায় মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পরে বারৈয়াহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি— সর্বশেষ গণশুনানির প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন উপজেলার সদর দপ্তর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে অথবা সবার জন্য যাতায়াতবান্ধব কোনো যুক্তিসঙ্গত জায়গায় স্থাপন করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের সরকারি উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে একটি কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সদর দপ্তর ভুজপুর থানার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনটি হলে উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না।
সমাবেশে বক্তব্য দেন— বাগানবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল, ভুজপুর থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আমিন আজাদ, ভুজপুর থানা যুবদলের সভাপতি একরামুল হক একরাম, ব্যাংকার হাসান শামসুদ্দিন, ইদ্রিস মিয়া ইলিয়াস ও সাংবাদিক কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
বক্তব্যে নুরুল আমিন আজাদ অভিযোগ করেন, "ফটিকছড়ির উত্তরাঞ্চল যুগ যুগ ধরে স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ অবকাঠামোর দিক থেকে চরমভাবে অবহেলিত। অথচ এই উত্তরাঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন থেকেই সরকার সর্বোচ্চ রাজস্ব পেয়ে থাকে এবং এখানে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। তাই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে দাঁতমারা বা নারায়ণহাট এলাকায় সদর দপ্তর স্থাপন করাই সবচেয়ে যৌক্তিক।"
এদিকে প্রস্তাবিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সীমানা নির্ধারণ নিয়েও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করে আসছে ‘বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম’। আইনি জটিলতা এড়াতে এই এলাকাগুলোকে নতুন উপজেলার মানচিত্র থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দারা সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি নিয়ে মানববন্ধন ও আন্দোলন করেছেন। তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং আমরা তাদের দাবিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করছি সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।”
ইউএনও আরও জানান, আগামীকাল বুধবার নিকার (NICAR)-এর সভায় নতুন এই উপজেলা গঠনের প্রস্তাবটি উত্থাপনের কথা রয়েছে।