

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনুমতি ছাড়া জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না, এমন সরকারি নির্দেশ অমান্য করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তিন ফসলি কৃষিজমিতে পুকুর কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষিজমি। বিভিন্ন বিলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ কৃষক। একশ্রেণির অসাধু মানুষ কৃষকদের হুমকি দিয়ে কৃষিজমিতে পুকুর খনন করছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে এমন অপরাধ করলেও তা বন্ধে প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুকুর খনন করায় উপজেলায় প্রতিবছর কৃষিজমির পরিমাণ ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে কমছে। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন কম হচ্ছে। খনন করা জমির পাশের অনেক আবাদি জমি প্লাবিত হচ্ছে। কৃষকেরা এ নিয়ে মহাবিপদের মধ্যে আছেন। যে জমিতে ধান চাষ হতো, সে জমিতে এখন পুকুর কাটা হচ্ছে। পাশের জমির কেউ পুকুর কাটলে আরেক জমির মালিকও আগ্রহী হচ্ছেন। সেচের পানি জমিতে থাকছে না। ফসলি জমির পানি পুকুরে নেমে যাচ্ছে। এতে চাষিরা ভালো করে ধানসহ অন্য ফসলের চাষও করতে পারছেন না। বছরে দুই মৌসুমে ধান চাষ হলেও এখন অর্ধেক জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের রতন ছৈয়ালের বাড়ীর পাশে ৩টি স্পষ্টে একযোগে ৪টি এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে তিন ফসলী কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। কৃষকদের পক্ষে থেকে উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও তা বন্ধে প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এছাড়াও একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিমের বিলে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলার ডিএমখালী, চরকুমারিয়া, সখিপুর আরশিনগর ইউনিয়নের মালত বাজার, চরভাগা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজার, মমিন আলী মোল্লার বাজার সহ একাধিক যায়গায় একইভাবে কৃষি জমি ধংস করা হচ্ছে।
ডিঙ্গামানিক এলাকার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন বলেন চরভাগা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বাজারের খুনিকান্দিতে আমাদের কৃষি জমিতে জমিতে অবৈধ এবং জোরপূর্বকভবে পুকুর খনন করতেছে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রতিকারের জন্য ইউএনও বরাবর দরখাস্ত করেছি।
মহিষার ইউনিয়নের বাড়ৌই জঙ্গল গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া বলেন, ‘কৃষিজমিতে পুকুর খনন করে মাছের ঘের করা হচ্ছে। জমি না দিলে মোটা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে মাটি কাটতে বাধ্য করা হয়। প্রশাসনকে জানিয়ে কোন লাভ হচ্ছে না। আমাদের জমির চারপাশে কেটে মাঝখানে আটকে জোরপূর্বক দখল করে এই কাজ করে তারা।
চরভাগা ইউনিয়নের কৃষক মতিন মিয়া বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় আমরা আর কৃষি কাজ করতে পারবো না। যেভাবে পুকুর খনন করা হয়েছে, তাতে আমাদের কৃষিজমিতে পানি থাকছে না। এতে ফসল উৎপাদনের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের নিষেধ করলে শুনে না হুমকি ধামকি দেয়। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
মহিষার ইউনিয়নের কৃষক আবু বক্কর বলেন, আমার জমি দিতে না চাইলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জোর করে পুকুর খনন করছে। ওই জমি ছাড়া আমার আর কোনো জমি নেই। আমি নিরুপায় হয়ে পড়েছি। যে হারে পুকুর খনন হচ্ছে তাতে ফসলি মাঠ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমার পাটের খেতের পাশে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন চলছে।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুল হক বলেন, ‘মাঠের ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা পুরোপুরি বেআইনি। জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি থাকলেই কেবল ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা যায়। তাও সেটি নিজের জমিতে হতে হবে। পুকুর খননে যারা জোরজবরদস্তি করছেন, ফসলি জমি বাঁচাতে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফসলি জমিতে পুকুর খননের অভিযোগ পেলেই আইনের আওতায় আনা হবে।