

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার টেলকি জলই গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং নেইমার ম্রং (১০)। তারা সবাই উপজেলার জলই গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে একটি ছাগল বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়ে যায়। ছাগলটিকে উদ্ধার করার জন্য প্রথমে গ্রাব্রিয়েল নকরেক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ অতিবাহিত হলেও তিনি আর উপরে উঠতে না পারায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরে তাকে উদ্ধারের জন্য একে একে রতন নকরেক, বাবলু হাদিমা এবং শিশুপুত্র নেইমার ম্রং ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিন্তু তারাও আর ফিরে আসতে পারেননি।
একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে মধুপুর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ট্যাংকের ভেতর থেকে চারজনকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে কেউ প্রথমে বুঝতেই পারেননি কী কারণে একের পর এক মানুষ ট্যাংকের ভেতরে অচেতন হয়ে পড়ছেন। পরে ধারণা করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল। সেই গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, সেফটিক ট্যাংক, কূপ কিংবা গভীর গর্তে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এসব স্থানে নামা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুর হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে একই পরিবারের ও প্রতিবেশীদের কয়েকজনের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের মাতম চলছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
অনেকেই বলছেন, একটি ছাগল উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে চারটি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংক, কূপ ও গভীর গর্ত যথাযথভাবে ঢেকে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া সেখানে কাউকে না নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলোর মাঝে শোক ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।