

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনার কইজুরি বিল। এই বিলে স্থানীয় ৫টি গ্রামের কয়েক সহস্রাধিক কৃষকের প্রায় একশো একর ফসলি জমি রয়েছে। তবে বিলটি সারাবছর জলাবদ্ধ থাকার কারণে অনাবাদী রয়েছে প্রায় ৫০ একর জমি।
দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদী থাকায় এসব জমিতে বর্তমানে কচুরিপানা জমে স্তর পড়ে গেছে। আর বাকী ৫০ একর জমিতে বোরো আবাদ হলেও পানিতে তলিয়ে ফসলহানির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কইজুরি খালটি যেন অচিরেই দখলমুক্ত করে খনন করা হয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নে অবস্থিত কইজুরি বিলটি। এ বিলে স্থানীয় কালেঙ্গা, চিকনি, সাখড়া, পূবাইল ও চন্দলাড়া গ্রামের কয়েক সহস্রাধিক কৃষকের কমপক্ষে একশো একর ফসলি জমি রয়েছে। এসব জমিতে ফসল উৎপাদন করেই চলে কৃষকদের সারাবছরের খাদ্য চাহিদা। কিন্তু ১৫-২০ বছর ধরে বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কইজুরি খালটি স্থানীয়দের দখলে ভরাট হয়ে যাওয়ার পর থেকে পুরো বছরই বিলটি জলমগ্ন থাকে। যে কারণে বিলের অর্ধেক জায়গা জুড়ে ফসল আবাদ করতে পারছেন না কৃষকরা। তবে বাকী অর্ধেক অংশে বোরো আবাদ হলেও বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন তারা। বিল থেকে স্থানীয় কালেঙ্গা গ্রামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাটেশ্বরী নদীতে গিয়ে মিশেছে পানি নিষ্কাশনের কইজুরি খালটি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার।
স্থানীয় কৃষক আনু মিয়া, হাবিবুল্লাহ, আব্দুল মোতালেব, মোমেন মিয়া, আতিকুর রহমান সবুজ, আজিজুল হক, হাবিবুর রহমান, আবু তাহের, সম্রাজ মিয়ার সাথে কথা হলে তারা কইজুরি বিল নিয়ে তাদের নানা কষ্টের চিত্র তুলে ধরেন।
কৃষক আনু মিয়া বলেন, এ বিলে আমাদের জমি রয়েছে। গত ১৫-২০ বছর আগেও এই বিলের জমির পানি নিষ্কাশনের কোনো সমস্যা ছিল না। কইজুরি খাল দিয়ে সব পানি প্রবাহিত হতো। বিলের জমিতে হাজার হাজার মণ ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হতো। কিন্তু বর্তমানে তা যেন স্বপ্ন। খালটি দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিলটি এখন সারাবছরই জলাবদ্ধ থাকে। কোনো ফসলই আবাদ করা যায় না। বোরো মৌসুমে অর্ধেক বিলে আবাদ হলেও তা পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কৃষক হাবিবুল্লাহ বলেন, বিলে আমাদের প্রায় দুই একর জমি আছে। এসব জমিতে পানি থাকায় উপরে কচুরিপানার স্তর পড়ে গেছে। কোনো ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
কৃষক সম্রাজ মিয়া বলেন, আমাদের একমাত্র দুঃখই হল বিলে জমে থাকা পানি। পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি খনন হলেই এ দুঃখ দূর হবে। এ জন্য আমরা দীর্ঘদিন যাবত বহু চেষ্টা তদবির করছি। কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না। তাই প্রতিবছরই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব মিয়া বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখেছি খালটি দিয়ে নৌকা চলতো। কিন্তু এখন খালটি বিলুপ্ত হয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। আর খাল ভরাটের কারণে বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা কইজুরি বিলে চাষাবাদ করতে পারছেন না। যতটুকুও হচ্ছে সেটাও আবার পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা শুনেছি, এ খালটি নাকি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে খাল খনন কর্মসূচির আওতায় খনন করা হয়েছিল। আমাদের এলাকাবাসীর দাবি, কৃষকদের কথা চিন্তা করে পুনরায় খালটি খননের ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন তালুকদার বলেন, মাত্র তিন কিলোমিটার খালটি দখলমুক্ত করে খনন করলেই এলাকার শত শত কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে। কিন্তু সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। স্থানীয় কালেঙ্গা গ্রামের লোকজন নিজেরা চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে এক কিলোমিটারের মতো খালটি খনন করেছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে দখলদাররা বাধা দেওয়ায় আর খনন করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা হলে নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলার দখল হওয়া ও ভরাট হয়ে যাওয়া সকল নদ-নদী ও খালগুলো পর্যায়ক্রমে দখলমুক্তসহ পুনঃখনন করা হবে। এরইমধ্যে কিছু খনন কাজ চলছে এবং আরো কিছু খননের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন