শনিবার
২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯২ বছর বয়সে মারা গেলেন হেনরি কিসিঞ্জারের স্ত্রী ন্যান্সি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি এ কিসিঞ্জারের স্ত্রী ন্যান্সি কিসিঞ্জার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউথ কেন্টে নিজের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রায় পাঁচ দশক হেনরি কিসিঞ্জারের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন কাটিয়েছেন ন্যান্সি। আন্তর্জাতিক কূটনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বামীর পাশে ছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। এরপর কিসিঞ্জারের বিভিন্ন সরকারি ও কূটনৈতিক সফরের সঙ্গী হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন ন্যান্সি।

হেনরি কিসিঞ্জার ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর ১০০ বছর বয়সে মারা যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে তার দীর্ঘ ও প্রভাবশালী ভূমিকার কারণে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্বামীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিচিতির পাশাপাশি ন্যান্সি কিসিঞ্জারও ওয়াশিংটনের সামাজিক পরিমণ্ডলে পরিচিত মুখ ছিলেন। ১৯৭৭ সালে হেনরি কিসিঞ্জার সরকারি দায়িত্ব ছাড়ার পরও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ, দূতাবাসের অনুষ্ঠান ও রিপাবলিকান পার্টির আয়োজনে দুজনকে নিয়মিত দেখা যেত।

নিউইয়র্কের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও কিসিঞ্জার দম্পতির পরিচিতি ছিল। জাদুঘরের উদ্বোধন, ফ্যাশন শো এবং বিভিন্ন দাতব্য অনুষ্ঠানে তারা অংশ নিতেন। তাদের মূল বাসভবন ছিল নিউইয়র্কে।

পরবর্তী সময়ে সামাজিক ব্যস্ততা অনেকটাই কমিয়ে দেন তারা। ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকে সাউথ কেন্টের প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে থাকা বাড়িতে অবসর সময় কাটাতেন দুজন। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও ছুটির দিনগুলো সেখানে কাটানো ছিল তাঁদের নিয়মিত অভ্যাস।

বিয়ের পর ন্যান্সি সম্পর্কে তাদের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু একসময় তাকে বুদ্ধিমতী, দক্ষ ও আন্তরিক মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তার ব্যক্তিত্বে আকর্ষণ ও রসবোধ ছিল বলেও উল্লেখ করেছিলেন ওই বন্ধু।

তবে হেনরি কিসিঞ্জারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ঘিরে বিতর্কও ছিল। ফলে ন্যান্সির জনজীবনও অনেকটা সেই পরিচয়ের ছায়ায় আবর্তিত হয়েছে।

১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জেরাল্ড ফোর্ডের প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হেনরি কিসিঞ্জার। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একাধিক দেশ সফর করে কূটনৈতিক তৎপরতা চালান কিসিঞ্জার। ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসানেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্যারিস শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য হেনরি কিসিঞ্জার ও ভিয়েতনামের কূটনীতিক লে দুক তো যৌথভাবে ১৯৭৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। কিসিঞ্জারের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গী হিসেবে ন্যান্সি কিসিঞ্জারও প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে তার পাশে ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank