

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হরমুজ প্রণালিতে এক বিশেষ ও গোপন নৌপথ চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিচ্ছে তারা। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখলেও তেল পরিবহনের নতুন এই তথ্য সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
তাদের ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চলছে। এর আওতায় প্রতি রাতে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণের একটি নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করছে। নৌপথটি ওমানের উপকূলঘেঁষা।
কর্মকর্তারা জানান, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রবেশ করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রণালিটি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হতো, বর্তমান পরিমাণ তার প্রায় অর্ধেক।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই অভিযান শুধু তেলভর্তি ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালি থেকে বের করে দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিযানের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র খালি তেলবাহী জাহাজকে আরব সাগর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতেও সহায়তা করছে। এসব জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ থেকে তেল সংগ্রহ করে আবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই অভিযানের পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দুই মাস ধরে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণের পথ নিয়ন্ত্রণ করছি। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে, কিন্তু তারা প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করে না। নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে।’
জাহাজগুলোর নিরাপত্তার জন্য মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানও মোতায়েন রয়েছে। এসব যুদ্ধবিমান ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দুই সপ্তাহব্যাপী একটি সামরিক অভিযান ইরানের রাডার এবং সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়ার পর এই নৌপথ চালু করা সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানিরা অনেকটাই ‘অন্ধ’ হয়ে গেছে। ফলে জাহাজগুলো ঠিক কোন পথে চলছে, সে বিষয়ে তাদের নির্দিষ্ট তথ্য নেই। এ কারণে ইরান সাধারণভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারে এমন এলাকাগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। ইরানের হামলায় কয়েকটি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। তবে অনেক হামলা মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রতিহত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষকরাও এমন কোনও তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। শিপ ট্র্যাকিং সাইট কেপলার জানিয়েছে, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) এই প্রণালি দিয়ে মোটে ৯টি জাহাজ পার হয়েছে।


