মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। একই সঙ্গে আরও হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত একটি তথ্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত ওই তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ভিসা বাতিলের অধিকাংশ ঘটনাই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা আইনি পদক্ষেপের কারণে ঘটেছে। এছাড়া ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি- এ ধরনের কারণেও ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

ট্রাম্প গত বছর আবারও হোয়াইট হাউসে ফেরার পর যে ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু হয়, তার পরিধিই ভিসা বাতিলের এই সংখ্যায় প্রতিফলিত হয়েছে। এ অভিযানের আওতায় রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বৈধ ভিসাধারীরাও রয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘দপ্তরের ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ভিসাগুলো বাতিল করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে ভিসাধারীরা তাদের ভিসার শর্ত মেনে চলছেন এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকি হয়ে উঠছেন না।’

ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ।

পররাষ্ট্র দপ্তর কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে গুরুতর ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপকরণ রাখার এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে।

দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টির বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বার্থ টুরিস্ট’ হিসেবে আসা বাবা-মায়েদের। অভিযোগ, এসব মা–বাবা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য দেশটিতে এসেছিলেন, যাতে তাদের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায়।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড উদযাপন করা কিছু বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বলেছিলেন, ‘ফ্যাসিস্টরা মারা গেলে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করে না।’ আরেকজন বলেছিলেন, তিনি ‘অনেক দেরিতে মারা গেছেন’। জনপ্রিয় রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ক গত বছর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে, যাদের তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে।

পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘মার্কিন ভিসা একটি সুযোগ, অধিকার নয়।’ ভিসার এই সুযোগের অপব্যবহারকারীদের ভিসা বাতিল করতে বিদ্যমান সব ধরনের আইনি ক্ষমতা ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে তারা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা ১ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে, যা তখন পর্যন্ত রেকর্ড ছিল।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনকারীদের কার্যক্রম যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে এবং বিস্তৃত পরিসরে যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাইয়ের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের যাচাই বাক্‌স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং এটি নজরদারি ও অভিবাসীদের নির্দিষ্টভাবে টার্গেট করার মতো কর্মকাণ্ডে পরিণত হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন