

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বগতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে দরপতন ঘটেছে। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের ভবিষ্যৎ ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন মূল্যস্ফীতিসংক্রান্ত অর্থনৈতিক উপাত্তের দিকে নজর রাখায় স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিনের শুরুতে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম বেড়ে ৪ হাজার ৪৩৪.৮৪ ডলারে পৌঁছায়। গত ৫ জুনের পর এটি ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে পরে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিট নাগাদ ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৩৬৫.৬৫ ডলারে। অন্যদিকে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ৪ হাজার ৪২৪.৯০ ডলারে স্থিতিশীল ছিল।
অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা কৌশলবিদ আহমদ আসিরির মতে, ধাতব বাজারে বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাব ও নতুন করে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বর্ণের দাম লেনদেনের শুরুতে ৪ হাজার ৪০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল।
তবে বুধবার প্রকাশিতব্য মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ও বৃহস্পতিবারের উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার ওপর বর্তমানে বাজারের ভবিষ্যৎ নজর আটকে আছে। জুলাই মাসের দুর্বল কর্মসংস্থান উপাত্তের কারণে ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসে সুদের হার বাড়াবে, এমন অনুমান থেকে ইতোমধ্যে সরে এসেছে বাজার।
অ-সুদবাহী সম্পদ হওয়ায় সুদের হার কম থাকলে বা অপরিবর্তিত থাকলে বাজারে স্বর্ণের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা জানান, নতুন মূল্যস্ফীতি ছাড়াই অর্থনীতি শীতল হওয়ার আভাস মিললে বাজারে কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা আরও কমবে। ফলে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়বে, যা স্বর্ণের দর বৃদ্ধির জন্য আরেকটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের দেওয়া শর্তের বিপরীতে যুদ্ধ ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাল্টা দাবি জানিয়েছেন, যা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে; স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ১.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪.৪৯ ডলারে নেমেছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৪৪.২৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৭৩.০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

