বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:২২ পিএম আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ইরাক থেকে সমস্ত মার্কিন সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আগামী ত্রিশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা যৌথভাবে ঘোষণা করা হয়।

সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে নিজের সন্তোষ প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন যে ‘আমরা এখন আর মনে করি না যে সেখানে আমাদের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন রয়েছে’।

ইরাকে মূলত ইসলামিক স্টেট বা আইএস বিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় দুই হাজার পাঁচশত মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল, তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সৈন্য সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বেশ হ্রাস পেয়েছে। এতদিন ধরে মার্কিন সেনারা কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল, বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছের একটি ঘাঁটি এবং গ্রিন জোন নামে পরিচিত রাজধানী বাগদাদের সরকারি প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থান করছিল।

প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির নেতৃত্বাধীন ইরাকি সরকার এই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনাটিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রভাবশালী ও ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণের শর্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এই বিষয়ে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করে বলেন যে ‘আগামী ত্রিশে সেপ্টেম্বর আমেরিকান বাহিনী ইরাক ছেড়ে চলে যাবে এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলো এখানে প্রবেশ করবে। ত্রিশে সেপ্টেম্বরের পর আমরা রাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোনো গোষ্ঠীকে কোনো ধরনের অস্ত্র বহন করার অনুমতি দেব না’। বৈঠককালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে একজন ‘চ্যাম্পিয়ন’ বা বীর হিসেবে প্রশংসা করেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এই ওয়াশিংটন সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরাকের জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের মার্কিন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে আল-জাইদি দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক চুক্তি ঘোষণার বিষয়ে আভাস দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইরাকের বিশাল তেল সম্পদের কারণে দেশটিকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে ‘আমরা অনেক চুক্তি করতে যাচ্ছি। আমরা উভয় দেশের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং আমরা বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলন করতে যাচ্ছি’।

ইরাকি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় এই বিনিয়োগের অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার ইরাক সরকার, শেভরন, টিআই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসি যৌথভাবে একটি মেগা চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে।

এই চুক্তির আওতায় প্রতিদিন বিশ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম একটি বিশাল পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে, যা ইরাকের বসরা শহরকে হাদিথার সঙ্গে সংযুক্ত করবে। পরবর্তীতে এই পাইপলাইনের পরিধি বাড়িয়ে তা তুরস্ক এবং সিরিয়ার বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
England VS Argentina
67'
1 - 0
55' Anthony Gordon
World Cup