

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরাইলের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। বসতি স্থাপন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পর পালটা চার দফা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। এতে কয়েক দশকের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক সবচেয়ে তলানিতে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনসহ দেশটির সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ঠেকাতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে যুক্তরাজ্য। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও বেসামরিক হতাহতের বাস্তবতায় ইউরোপের কয়েকটি দেশের এমন পদক্ষেপ তেল আবিবের বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি ও সংশ্লিষ্ট কিছু সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সংসদে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মাধ্যমে জাতিগত নিধন চলছে এবং এ বিষয়ে ইসরাইল সরকার চোখ বন্ধ করে আছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্রান্স ও কানাডাও যোগ দেবে। পরবর্তীতে ডেনমার্ক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেনও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে বলে জানান তিনি।
এ নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে এলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও ১ হাজার ২০০টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞাকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করেন।
ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বিবিসিকে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাজ্যের কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
পালটা চার পদক্ষেপ ইসরাইলের
ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার জবাবে জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার চার দফা পালটা পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।
পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করা, দক্ষিণ ইসরাইলের কিরিয়াত গাতে ‘ইন্টারন্যাশনাল গাজা সাপোর্ট সেন্টার’ থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের প্রত্যাহার এবং রামাল্লায় ব্রিটিশ সাপোর্ট টিমের আওতায় পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করা।
এ ছাড়া ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসরাইলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জন ব্রিটিশ এমপি এবং কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিকের ওপর ইসরাইলে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বর্তমান যুক্তরাজ্য সরকারকে ‘বৈরী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কাজ করছে। আগামী মাসে ইসরাইলে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে যুক্তরাজ্য সরকার দেশটির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ’ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিবিসির কূটনৈতিক প্রতিবেদক পল অ্যাডামস বলেন, পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসরাইলের তীব্র প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিটির গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশেষ করে ১২টি দেশ একসঙ্গে একই পদক্ষেপ নেওয়ায় ইসরাইলের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
লন্ডনের কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানতেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নীতিতে এমন পরিবর্তন বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তবে ইসরাইলের প্রতিক্রিয়ার গতি ও তীব্রতা তাদের কিছুটা বিস্মিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তকে বিশেষভাবে বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরে সেবা প্রদান এবং রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ২০২৪ সালের সেই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে, যেখানে ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতিসহ সামগ্রিক দখলদারত্বকে বেআইনি বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও এই অবস্থানের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।

