

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরীয়তপুরের জাজিরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় জামায়াতের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ওঠে বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিজয় টিভির জাজিরা প্রতিনিধি জুয়েল মিয়া মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জাজিরা উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জাজিরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। একই সময়ে কাছাকাছি টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় পৃথক কর্মসূচি পালন করছিল বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গণমিছিল শুরুর আগে জামায়াতের নেতাকর্মীরা মডেল মসজিদ এলাকায় সমবেত হয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
এসময় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী মডেল মসজিদ এলাকায় প্রবেশ করে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজয় টিভির জাজিরা প্রতিনিধি জুয়েল মিয়া হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিডিও ধারণ করতে দেখে কয়েকজন তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
শরীয়তপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহা. আব্দুর রব হাসেমী বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আমরা কর্মসূচির আয়োজন করি। বিএনপিও তাদের নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করছিল। আমরা গণমিছিল শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ তাদের কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
আহত সাংবাদিক জুয়েল মিয়া বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। হামলার ঘটনা ভিডিও ধারণ করার সময় কয়েকজন আমার ওপর হামলা চালায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাজিরা পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিলন। তিনি বলেন, আমি মিছিলের সামনের সারিতে ছিলাম। জামায়াতের কর্মসূচিতে কোনো হামলা চালাইনি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কে বা কারা হামলা করেছে, তা আমি বলতে পারছি না।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।