

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে তারাপীঠ থানার অদূরে পুকুরপাড়ে অবস্থিত ‘বিদেশিনী’ হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলের নিচের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেটে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন হোটেলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নিচতলার একাংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ওপরের তলাগুলোতেও। আগুনের কারণে বেশ কয়েকজন আবাসিক ওপরের তলায় আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে দমকলের একাধিক দল সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ ও ধোঁয়ায় অসুস্থ ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হোটেল মালিক কল্যাণ পাল দাবি করেন, আগুন লাগার পর রাতপাহারার কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরে যাওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে যাওয়ায় আতঙ্কিত আবাসিকরা রিসেপশনের দিকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অনেকে আগুনের সংস্পর্শে এসে দগ্ধ হন বলে জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের সঙ্গে ওই হোটেলে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা তপনজ্যোতি মণ্ডল। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও বিপদের মুখে পড়েন। তিনি জানান, আগুন দেখতে পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। জানলা না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতরে আটকে ছিলেন। পরে শৌচাগারের ওপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। তার মা ও বোনও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
শ্রাবণ মাস উপলক্ষে তারাপীঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী এসেছিলেন। মালদহ, আলিপুরদুয়ারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীদের অনেকে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও দমকল বাহিনীর তৎপরতায় আরও বড় বিপদ এড়ানো গেলেও প্রাণহানির ঘটনায় তারাপীঠে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।


