

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, মোবাইল ফোন তল্লাশি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত প্রভোস্টকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এসব তথ্য জানান।
তার দাবি, তার দাবি, হলের এক শিক্ষার্থী প্রভোস্টের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার পর তাকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে প্রভোস্ট রুমের দরজা বন্ধ করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ওই শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
ঘটনার বিবরণে পোস্টে তিনি বলেন, ছেলেটা এসে হল সংসদে অভিযোগ জানায় এবং বিস্তারিত ফেসবুকে জানিয়ে দেয়। স্বভাবতই অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয় এবং হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি তোলে। হল সংসদ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাওয়ায় সম্মতি জানিয়ে আন্দোলনের ডাক দেয় যে, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখাতে হবে, প্রভোস্ট দোষী হলে তাকে বরখাস্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা হল সংসদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করে এবং ডাকসুও তার দায়িত্বের জায়গা থেকে এতে কো-অপারেট করে।
তিনি বলেন, সন্ধ্যা থেকে আমরা প্রভোস্ট রুমে অবস্থান করে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাই। আমি ক্লিয়ার বলেছি, স্যার আপনার সাথে আমাদের বাড়তি কোনো কথা নেই। আপনি সিসিটিভি ফুটেজটা জাস্ট আমাদের দেখাবেন যে অভিযোগ সত্য কিনা৷ আপনি নির্দোষ হলে তো দেখাতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না।
কিন্তু প্রকোস্ট তা দেখাতে অস্বীকার করেছে জানিয়ে জুবায়ের বলেন, তিনি আমাদের তা দেখাতে অস্বীকার করে উল্টো আমাদেরকেও হুমকি দিতে থাকেন। আমরা আর ওনার সাথে কথা না বাড়িয়ে বাইরে চলে আসি। এবং ফুটেজ না দেয়া পর্যন্ত রুমের গেইটে তালা দিয়ে দেই।
এরপরে প্রক্টর স্যার আসেন। উনি এসেও নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। ফুটেজ আর দেখান না। এরমধ্যে আন্দোলনে লোক সমাগম বাড়ে, শিক্ষার্থীরা প্রভোস্ট রুমে ঢুকে পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে।
ঘটনার বিবরণে এই ডাকসু নেতা আরও বলেন, এরপরে আসেন দুজন প্রো-ভিসি স্যার। ওনারা এসেও শিক্ষার্থীদের সামনে ফুটেজ পাবলিশ করতে অস্বীকার করেন। এবং আমাদেরকে বলতে থাকেন শিক্ষার্থীদের বের করে দাও, আমরা অল্প ক'জন ফুটেজ দেখবো, আলোচনা করবো। আমরা বলি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের সামনেই দেখাতে হবে। স্যার নির্দোষ হলে তো ফুটেজ দেখাতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা না। কিন্তু ওনারা দেখাবেন না। বরং পরিস্থিতি এমন বিশৃঙ্খল রেখে ওনারা অভিযুক্ত প্রভোস্টকে নিয়ে বের হয়ে যেতে চান।
ছাত্রদলের উপর অভিযোগ টেনে পোস্টে তিনি বলেন, স্বভাবতই শিক্ষার্থীরা এর বিরোধিতা করে। এরকম দর-কষাকষির মধ্যেই ছাত্রদলের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা এসে রুম থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিতে থাকে। শুধু ভিক্টিম এবং প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার বাহানায় শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়। এবং জোরপূর্বক নিপীড়ক প্রভোস্টকে বের করে নিয়ে যেতে চায়। শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিলে শুরু করে মা'রধর।
পোস্টের শেষে তিনি জানান, সর্বশেষ আপডেট, ওই হল সংসদের ভিপি-জিএস, পাঠকক্ষ সম্পাদক সহ অনেক শিক্ষার্থী আ'হত। আর ছাত্রদল ওই নিপীড়ক প্রভোস্টকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে।


