

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। কিন্তু তা সত্ত্বেও দিনের বিভিন্ন সময়ে ধূমপায়ীদের নিকোটিনের উপর নির্ভরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে অনেকে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ না ধুয়েই দিনের প্রথম সিগারেট ধরান। চিকিৎসকদের মতে, এতে ধূমপানের ফলে শারীরিক ক্ষতির মাত্রা দ্বিগুণ হতে পারে।
সকালে প্রথম সিগারেট কেন গুরুত্বপূর্ণ
রাতে ঘুমানোর সময় দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা শরীরে নিকোটিন প্রবেশ করে না। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেক নিয়মিত ধূমপায়ীর মধ্যে নিকোটিনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস তাই শুধু একটি দৈনন্দিন অভ্যাস নয়, নিকোটিনের ওপর নির্ভরতারও ইঙ্গিত দিতে পারে।
গবেষণায় সকালে দ্রুত প্রথম সিগারেট খাওয়ার সঙ্গে ধূমপানজনিত কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রথম সিগারেট খাওয়া ব্যক্তিদের ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি।
আরও একটি গবেষণায় ঘুম থেকে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যে সিগারেট খাওয়ার সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সকালের প্রথম সিগারেট অন্য সময়ের সিগারেটের চেয়ে ‘দ্বিগুণ ক্ষতিকর’। গবেষণাগুলো মূলত দ্রুত প্রথম সিগারেট খাওয়ার সঙ্গে নিকোটিন-নির্ভরতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়টি তুলে ধরেছে।
হৃদ্যন্ত্রেও তাৎক্ষণিক প্রভাব
সিগারেটের নিকোটিন শরীরে প্রবেশের পর হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়তে পারে। নিয়মিত ধূমপান দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাই ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ধুয়ে বা চা-কফি খেয়ে তারপর সিগারেট খেলেই সেটি নিরাপদ হয়ে যায়—এমন ধারণার ভিত্তি নেই। ধূমপানের ক্ষতির মূল কারণ তামাকের ধোঁয়ায় থাকা অসংখ্য ক্ষতিকর রাসায়নিক।
দিনে কম সিগারেট খেলেও ঝুঁকি
দিনে মাত্র কয়েকটি সিগারেট খান বলে ঝুঁকি নেই; এমন নয়। ধূমপানের পরিমাণের পাশাপাশি দিনের প্রথম সিগারেট কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটিও নিকোটিন-নির্ভরতার মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে নিয়মিত প্রথম সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা যেতে পারে।
কী করবেন?
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। যাদের পক্ষে হঠাৎ ধূমপান বন্ধ করা কঠিন, তারা চিকিৎসক বা ধূমপান ছাড়ানোর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপি ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
সুতরাং, সকালে ঘুম থেকে উঠে কত দ্রুত প্রথম সিগারেটটি ধরাচ্ছেন, সেটিকে নিছক অভ্যাস হিসেবে না দেখে নিকোটিন-নির্ভরতার একটি সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখা জরুরি।



